চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় তানজিনা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্বামী আকাশ (২৬)। সেখানে চিকিৎসকে মৃত ঘোষণার পরই পালিয়ে যান ওই গৃহবধূর স্বামী।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানজিনা ও আকাশ ভালোবেসে চার মাস আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও অর্থ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রবিবার রাতেও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়।
এরপর রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তানজিনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান আকাশের পরিবারের সদস্যরা বলে জানা গেছে। পরে আকাশ তানজিনাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তানজিনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন আকাশ ও তানজিনার দুলাভাই। চিকিৎসক তানজিনাকে মৃত ঘোষণা করার পর আকাশ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে তানজিনার পরিবারের কাছ থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিতেন আকাশ। এ নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও করা হতো। তাদের দাবি, তানজিনাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই আবদুর রহিম বলেন, পরিবারের অমতে তানজিনা বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর থেকেই টাকার জন্য আকাশ তাকে চাপ দিত এবং মারধর করত। আমার বোনকে মেরে ফেলা হয়েছে। এটা আত্মহত্যা নয়।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, আকাশ আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে তানজিনাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করার পর আকাশ পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তথ্য পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তানজিনার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।