রাজধানীর দক্ষিণখানে এক মহল্লার বাসিন্দাদের অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও হুলস্থুল কাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অপর এক মহল্লার বাসিন্দাদের বাঁধায় শেষ পর্যন্ত সংযোগকারীরা কাজ অসম্পূর্ণ রেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দক্ষিণখানের মুক্তিযোদ্ধা রোডে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ এই সংযোগ দেওয়ার মূল উদ্যোগটি নেয় মধ্য আজমপুরের মুসলিমপাড়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। এ প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন উত্তরা পূর্ব থানার যুগ্ম আহ্বায়ক, ‘হাসান মাহমুদ কমপ্লেক্স’-এর মালিক ও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা হাসান মাহমুদের ছোট ভাই মো. আবু তাহের মৃধা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয়রা জানান, প্রাথমিক অবস্থায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি দেখে মুক্তিযোদ্ধা রোডের বাসিন্দারা এটিকে সড়ক সংস্কারের কাজ মনে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেখান থেকে গ্যাস লাইনের সংযোগ নিতে দেখে তারা বাধা দেন এবং কাজের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। এ নিয়ে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে অবৈধ সংযোগকারীরা মাটির নিচে গ্যাসের পাইপ ফেলেই সটে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, তিতাস গ্যাসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করেই এ সংযোগ দেওয়া হচ্ছিল। ঘটনা চলাকালে তিতাস কর্তৃপক্ষকে বারবার ফোন করা হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি তিতাসের একটি টিম ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলেও পরিস্থিতি বুঝে দূর থেকেই ফিরে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপনে গ্যাসের পাইপসহ অন্যান্য মালামাল এনে রাখা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে মুসলিমপাড়া ও মুক্তিযোদ্ধা রোডে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। উন্নয়ন কাজ ভেবে আমরা প্রথমে খেয়াল করিনি। পরবর্তীতে বুঝতে পারি, মুক্তিযোদ্ধা রোডের প্রধান লাইন থেকে মুসলিমপাড়ায় অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি টের পেয়ে আমরা বাধা দিলে কাজটি পণ্ড হয়ে যায়।
তারা আরও জানান, অবৈধ সংযোগের জন্য প্রায় ১০ ফিট রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। পরে মুক্তিযোদ্ধা রোডের বাসিন্দাদের সহায়তায় মাটির গর্ত ভরাট করে দেওয়া হয়।
মুসলিমপাড়ার ব্যবসায়ী মো. বাছির বলেন, এলাকার লোকজন তিতাস অফিসে যোগাযোগ করেই কাজ করছিল, তখন তিতাসের লোকজনও ছিল। তবে পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা যখন বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান, তখন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কাজ শুরুর আগে অবশ্যই তিতাসের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল।
তিনি আরও জানান, মুসলিমপাড়া আবাসিক এলাকার প্রায় সব বাড়িওয়ালা মিলে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন।মুসলিমপাড়ার আরেক বাসিন্দা দ্বীন মোহাম্মদ জানান, এলাকার ৬০ থেকে ৭০টি বাড়ির গ্যাস সংযোগের জন্য বাড়িপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে তোলা হয়েছিল। স্থানীয় এক ঠিকাদার কাজটি করছিলেন। আগের লাইনটিতে গ্যাস না থাকায় নতুন এই লাইনের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে তিনি জানান।
এদিকে রাতে গর্ত ভরাট করতে থাকা দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গ্যাসের লাইনের জন্য এই গর্ত করা হয়েছিল, এখন তা ভরাট করে দিচ্ছি।অবৈধ সংযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে উত্তরা পূর্ব থানার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু তাহের মৃধা এশিয়া পোস্টকে বলেন, সকালে তিতাস গ্যাসের লোকজন ছিল। রাতে যখন দুই পক্ষের ঝামেলা হয়, তখন আমি গিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলি।
এ বিষয়ে জানতে উত্তরা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।