বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

তাপমাত্রা কমেছে ১০ ডিগ্রি, ম্যাকাইয়ের কন্ডিশনের সঙ্গে কি মানিয়ে নিতে পারবে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে ১-০ ব্যবধানে।

তবে সেই জয় এখন অতীত। সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশনের পরীক্ষা। ২২ আগস্ট থেকে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের পর এবার বাংলাদেশের সামনে সুযোগ সিরিজ জয়ের।  কিন্তু সেই পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে ম্যাকাইয়ের পিচ ও আবহাওয়া।
তাপমাত্রার পার্থক্য

ডারউইনের গরম ও আর্দ্র পরিবেশের সঙ্গে ম্যাকাইয়ের শীতল কন্ডিশনের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। আগস্টে ডারউইনে দিনের তাপমাত্রা থাকে ৩২-৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়ামের আশেপাশে। তবে ম্যাকাইয়ে এই তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২০-২২ ডিগ্রিতে।

ম্যাকাই অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত। শীতকালে সেখানকার তাপমাত্রা কখনো কখনো ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও নেমে আসে। এমন ঠান্ডা পরিবেশে ঘাসের বৃদ্ধি কমে যায়, যা পিচ তৈরির ক্ষেত্রেও আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

পিচে থাকবে পেসারদের জন্য সুবিধা

ম্যাকাইয়ের পিচের সবচেয়ে বড় বিষয় হতে পারে বাউন্স ও গতি। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনাকে টেস্ট ক্রিকেটের উপযোগী করে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন পিচ কিউরেটর পিটার কাজাকফ।

তিনি আগে ব্রিসবেনের গ্যাবায় প্রায় ১৭ বছর কাজ করেছেন। গ্যাবা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির পিচগুলোর একটি।
তবে শুধু পেস সহায়ক উইকেট তৈরি হবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। বরং ভালো মানের, পাঁচ দিন টিকে থাকার মতো একটি ভারসাম্যপূর্ণ টেস্ট উইকেট তৈরিই কিউরেটর কাজাকঢের লক্ষ্য।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য ম্যাকাইয়ে ভালো উইকেট তৈরি করা এবং পাঁচ দিনের টেস্টের জন্য মানসম্মত পিচ প্রস্তুত করা একেবারেই আলাদা চ্যালেঞ্জ।

ম্যাকাইয়ের ঠান্ডা আবহাওয়া অবশ্য পেসারদের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। বাতাস শীতল থাকলে বলের সুইং ও সিম মুভমেন্ট কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পিচে যদি স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক বাউন্স থাকে, তাহলে সেটি কাজে লাগিয়ে স্টার্ক-কামিন্স-হ্যাজলউডরা বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করতে চাইবেন।

বাংলাদেশের ব্যাটারদের বড় পরীক্ষা

ডারউইনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ধৈর্য। প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা ৪২৬ রান করেছিল। তানজিদ হাসান পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪, মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫, মুমিনুল হকের ৪৯ এমনকি টেলএন্ডারদের ১৫০-এর বেশি বল টিকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কিন্তু ম্যাকাইয়ে পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। বল যদি শুরু থেকেই ভালোভাবে ক্যারি করে এবং ব্যাটারদের শরীরের কাছে উঠে আসে, তাহলে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে অফ স্টাম্পের বাইরে ধৈর্য ধরে খেলতে হবে। ডারউইনের তুলনায় ম্যাকাইয়ে শট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরো সহনশীলতার পরিচয় দিতে হতে পারে।

বিশেষ করে নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণকে সামলানোই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা। বল পুরোনো হওয়ার পর রান করার সুযোগ বাড়বে। কিন্তু সেই সময় পর্যন্ত থিতু হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পেসারদের ওপরও থাকবে বড় দায়িত্ব

ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ে পেসাররা ছিলেন মূল নায়ক। হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন। ইবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট এনে দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি ছাড়া পুরো ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রেখেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা।

ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন বাংলাদেশের পেসারদের জন্যও সহায়ক হতে পারে। সিমিং কন্ডিশনে হাসান-তাসকিনদের নতুন বলে আরো কার্যকর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে ধারাবাহিক লাইন-লেংথ বজায় রাখা জরুরি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা একবার সেট হয়ে গেলে ম্যাকাইয়ের তুলনামূলক ভালো বাউন্স তাদের অবলীলায় শট খেলার সুযোগ করে দিতে পারে।

স্পিনারদের ভূমিকা কি কমবে?

ম্যাকাইয়ে পেসারদের জন্য সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশের স্পিনারদের গুরুত্ব একেবারেই কমে যাচ্ছে না। ডারউইনে মেহেদী হাসান মিরাজ অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই তার বিশেষ অবদান ছিল।

ম্যাকাইয়ের পিচ যদি প্রথম দুই দিনে পেসারদের সহায়তা করে, তাহলে বাংলাদেশের স্পিনারদের হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ম্যাচ যত এগোবে, পিচে পরিবর্তন এলে মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ভূমিকা বাড়তে থাকবে।

কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই মূল কথা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসলে পিচের চেয়েও দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। ডারউইনের উষ্ণ পরিবেশ থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল ম্যাকাইয়ে এসে পরিকল্পনায় দ্রুত পরিবর্তন আনতে হবে।

বাংলাদেশ সমর্থকদের জন্য ভালো ব্যাপার হলো, দল এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চাপ সামলানোর সামর্থ্য তাদের আছে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও স্বীকার করেছেন, ডারউইনে বাংলাদেশ সব বিভাগেই তাদের ছাড়িয়ে গেছে।

এবার সেই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ম্যাকাইয়ের নতুন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এটিই হবে প্রথম টেস্ট। ভেন্যুটি এখন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102