মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
এনবিআরকে ভয় নয়, বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী কেরানীগঞ্জে শিশু অপহরণ : ১২ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চান্দিনায় ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে বাটলারের কড়া বার্তা ৪ দিন পর পুলিশের অপমৃত্যু মামলা, তদন্ত করতে জাহাজে বিশেষজ্ঞ দল পল্লবীতে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতার মহড়া ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৩ শতাংশ, আস্থা হারাচ্ছেন মার্কিনরা শিশুর হাম, চিকিৎসা করাতে ঘরবাড়ি বিক্রি করে নিঃস্ব

জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে বাটলারের কড়া বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

এএফসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নস লিগে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছে রাজশাহী স্টার্স। বাংলাদেশের জাতীয় দলের ১৯ খেলোয়াড় নিয়ে গড়া দলটির এমন পারফরম্যান্সে বিস্মিত জাতীয় দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার।

তাঁর মতে, ক্লাব ও জাতীয় দলের পরিবেশ এক নয়।
প্রশ্ন: রাজশাহী স্টার্সের দলে জাতীয় দলের ১৯ জন খেলোয়াড় ছিলেন। এরপরও ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছে দল। কী ভুল হয়েছে বলে মনে করেন? এই পারফরম্যান্সে কি আপনি অবাক?

পিটার বাটলার: আমি সত্যিই খুব অবাক হয়েছি।

কারণ আমি আরও ভালো কিছু আশা করেছিলাম। মেয়েরা জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে আমি তাদের বলেছিলাম, ২৩ জুলাই থেকেই তাদের ছেড়ে দিতে আমি প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু কোনো এক কারণে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছিল, যেটা আমার কাছে বেশ দেরি মনে হয়েছিল। তবে আমি এ বিষয়ে আর জড়াইনি।

আমি চেয়েছিলাম আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে, কিন্তু ক্লাবের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন সেটা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আমার সঙ্গে দেখাও করতে চায়নি।
প্রশ্ন: জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মান এবং এএফসি ক্লাব প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রয়োজনীয় মানের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা গেল, সেটি নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন?

পিটার বাটলার: এটা আবারও প্রমাণ করে যে ক্লাবের পরিবেশ আর জাতীয় দলের পরিবেশ এক নয়। আমাকে আবারও কঠোরভাবে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে হবে এবং দেখতে হবে, কারা নিজেদের আরামদায়ক অবস্থানে চলে গেছে। তাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে। অনেক মেয়ের মধ্যে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া যেন তাদের অধিকার—এমন একটা মানসিকতা তৈরি হয়েছে।

এটা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। এ কারণেই আমি নিয়মিত খেলোয়াড়দের দলে আনা-নেওয়া করি। কেউই জাতীয় দলে নিজের জায়গাকে নিশ্চিত ধরে নিতে পারে না। কিন্তু অনেকেই সেটাই ধরে নিচ্ছে।
প্রশ্ন: এই পারফরম্যান্স কি প্রস্তুতির ঘাটতি, কৌশলগত সমস্যা, নাকি দুই দলের মানের বড় পার্থক্যের ফল?

পিটার বাটলার: খুব ভালো একটা কথা আছে—‘প্রস্তুতিতে ব্যর্থ হলে, ব্যর্থতার জন্যই প্রস্তুত হতে হয়।’ আমি ছয় সপ্তাহের একটি প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুসরণ করি। প্রথম দুই সপ্তাহে থাকে ফিটনেসের ভিত্তি তৈরি করা। পরের দুই সপ্তাহে আমরা ম্যাচভিত্তিক অনুশীলন করি—বল পজেশনে থাকা ও না থাকা অবস্থায় কী করতে হবে, বিভিন্ন ড্রিল, খেলার নির্দিষ্ট বিষয় ও কৌশল নিয়ে কাজ করি। শেষ দুই সপ্তাহে থাকে ট্যাকটিকস, কৌশল, ম্যাচ পরিকল্পনা এবং প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ।

এসব কাজ আমি দলের ভেতরেই করি। খুব ভোরে অনুশীলন হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি গোপন রাখা হয়। আমি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে বসে কিবোর্ডে যুদ্ধ করা মানুষ নই। আমরা একটি পেশাদার দল এবং আমরা সংগঠিতভাবে কাজ করি। পুরো প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন জিপিএস ডেটা নেওয়া হয় এবং প্রতিদিন ও প্রতি সপ্তাহে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে গত পাঁচ-ছয়টি ম্যাচে কোন খেলোয়াড় কত মিটার দৌড়েছে, হাই-স্পিড ডিস্ট্যান্সে (এইচএসডি) তার সংখ্যা ও শতাংশ কত—এসব তথ্য আমার কাছে থাকে। সেই ডেটা দেখে আমি বুঝতে পারি কারা জিপিএস তালিকার নিচের দিকে রয়েছে।

প্রশ্ন: জাতীয় দলের এই খেলোয়াড়দের আপনি খুব ভালোভাবে চেনেন। এই ম্যাচ দেখার পর তাদের খেলায় কোন কোন জায়গায় দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন?

পিটার বাটলার: অবশ্যই। অনেক খেলোয়াড়কে আমি গত ছয় থেকে নয় মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করছি, এশিয়ান কাপের অনেক আগ থেকেই। আমি তাদের ফিটনেস, রক্ষণভাগের নীতি, দ্রুত ফিরে এসে রক্ষণে অবস্থান নেওয়া এবং কাউন্টার-প্রেসিংয়ের জায়গাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি।

আমরা নির্দিষ্ট কিছু ট্রিগার পয়েন্ট থেকে উচ্চগতিতে ও তীব্রতার সঙ্গে প্রেস করে খেলার গতি তৈরি করতে চাই। সেখান থেকেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ তৈরি হয়। খেলোয়াড়েরা এই দিকটা অনেক সময় পছন্দ করে না, কারণ এর জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়। একই বিষয় বারবার অনুশীলন করতে হয়। আর আমি প্রতিদিনই সেটা তাদের মাথায় ঢোকানোর চেষ্টা করি। আমরা প্রতিটি অনুশীলন সেশনের জিপিএস ডেটা সংরক্ষণ করি। ফলে শুধু সংখ্যাগুলো দেখেই বোঝা যায়, কোন দিনের কোন অনুশীলন সেশনের তথ্য সেটা।

প্রশ্ন: এমন একটি ফল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রস্তুতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে? আরও উচ্চমানের ম্যাচের জন্য জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কীভাবে প্রস্তুত করা যায়?

পিটার বাটলার: নেতিবাচকতা যদি জমতে দেওয়া হয়, তাহলে এর প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। ভালো কিংবা খারাপ—দুই ধরনের শারীরিক ভাষাই সংক্রামক। কোনো খেলোয়াড় ভালো খেললে সে নিজেও সেটা জানে, কোচরাও জানেন। সেটার প্রভাব তার আত্মবিশ্বাস, মেজাজ এবং চলাফেরায় দেখা যায়। আত্মবিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর একজন তরুণ খেলোয়াড়ের উন্নতির জন্য কঠোর বিশ্লেষণও অপরিহার্য। আমি নিজেও যখন খেলোয়াড় ছিলাম, ভালো খেললে কিংবা ভালো না খেললে আমার আচরণ ও মানসিকতায় বড় পার্থক্য দেখা যেত।

তবে সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব কোচিং বিভাগের। তাদেরই অনুশীলন পরিকল্পনা করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সেশন পরিচালনা করতে হবে। আমাদের একটি কথা আছে—‘অতিরিক্ত অনুশীলনই সবকিছু।’ এগুলোই একজন গড়পড়তা খেলোয়াড় আর একজন ভালো খেলোয়াড়ের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। এই অতিরিক্ত কাজগুলোকে উপেক্ষা করলে খুব দ্রুত সমস্যায় পড়তে হবে। আমি আরও অনেক খেলোয়াড়কে গত ছয় থেকে নয় মাস ধরে দেখছি। যারা পরিশ্রম করবে, যারা নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করবে, তাদেরই সুযোগ দেওয়া হবে। জাতীয় দলে কারও জায়গা নিশ্চিত নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102