স্বপ্নের মতো মুহূর্ত বাংলাদেশের। ডারউইনে এমন রূপকথার মতো সময় কাটাবে বাংলাদেশ কজনই ভেবেছিল।
টেস্ট শুরুর আগে সবাই বলাবলি করছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমরা টিকতে পারবেন তো।
সেই শান্ত-তানজিদ হাসান তামিমরাই এখন অস্ট্রেলিয়ার ওপর রাজত্ব করছেন। ঘরের মাঠে অজিরাই এখন কোণঠাসা। দ্বিতীয় দিন শেষ টেস্টের নাটাই বাংলাদেশের হাতে।
৬ উইকেটে ৩৫১ রানে দিন শেষ করেছে শান্তর নেতৃত্বাধীন দল।
দিন শেষে বাংলাদেশের লিড ১৫৩ রান। লিড যে আরও বড় হবে সেটা না বললেও চলে। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পেছনে অন্যতম কারিগর তানজিদ।
যার ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরির ওপর ভর করে দারুণ ভিত পায় বাংলাদেশ। দিন শেষে মিরাজের ৩২ রানের বিপরীতে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান মাহমুদ।
ইতিহাসটা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেঞ্চুরি পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার। কীর্তি গড়ার ইনিংসকে অবশ্য বড় করতে পারেননি তিনি। ১০১ রানে থেমে যায় তার ইনিংস।
ইনিংসটি সাজান ৮ চার ও ১ ছক্কায়।
বিদায় নেওয়ার আগে মমিনুল হকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ১০২ রানের জুটি। জুটিটা ভেঙে যায় ৪৯ রানে মমিনুল আউট হলে। বিপরীতে সেঞ্চুরির সময় শান্তকে পাশে পান তানজিদ। তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন তারা।
ক্যারিয়ারের অভিষেক সেঞ্চুরি পাওয়া তানজিদের পথেই হাঁটছিলেন শান্ত। তবে ১৬ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশের অধিনায়ককে। ৮৪ রানে জশ হ্যাজলউডের বলে স্লিপে আউট হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি তার। অধিনায়কের বিদায়ের পর কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ।
কেননা ১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছিল বাংলাদেশ। এ সময় শান্তর সঙ্গে ফেরেন লিটন দাস (০) ও মুশফিক (৩৬)। বোলার ভিন্ন ভিন্ন হলেও তিনজনই স্লিপে দাঁড়ানো স্টিভেন স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন। সেই ধাক্কা সামলিয়ে পরে সুন্দর মতো দিন শেষ করেন মিরাজ-হাসান।
সপ্তম উইকেটে অপরাজিত ৪৩ রানের জুটি গড়েছেন মিরাজ-হাসান। মারনাস লাবুশানের করা দিনের শেষ বলে অবশ্য ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ক্যাচটা ধরতে ব্যর্থ হওয়ার পরেই দিনের খেলার সমাপ্তি টানের মাঠের আম্পায়ারদ্বয়। সর্বোচ্চ ২ টি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক-হ্যাজলউড।