ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় কম্পিউটার দোকানের কর্মী মো. রাব্বি (২৫) হত্যার দায় স্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি আবদুল খালেক (২৭)। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি ক্ষোভ ও দম্ভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি নিজে ভালা মানুষ। আমার কি আজকে কথা আছিন এইনে আওয়ার (আসার)। আপনেগর কাজ যদি আপনেরা করতেন, তাহলে কি আমার আজকে এই জায়গায় আওয়া লাগে। আঙ্গর কি কইলজা নাই। আমার বাপেরে ওরা ১৫ জন মিইল্যা কুপাইছে, আর আমরা ২ ভাই মিইল্যা ওরে কুপাইছি। আমি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ মারছি, ভালা মানুষ মারি নাই।’
বৃহস্পতিবার রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে খালেককে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহে র্যাবের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এমন মন্তব্য করেন খালেক।
খালেক বলেন, ‘ঘটনার পরে আমার বাড়িঘরে আগুন দিলো ক্যান। লুটপাট করলো ক্যান। কোনো আইনের লোক তো আমাদের বাড়িঘর সেইভ করতে পারলো না। কয়দিন আগেও আমি নিজে তাদের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ দিয়েছি দুদকে।’
খালেকের দাবি, ২০১৮ সালে তার বাবাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা এবং তার এক হাত বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই তিনি ও তার ভাই মিলে রাব্বিকে হত্যা করেছেন।
র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের মাসকান্দা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে রাব্বির ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। আত্মরক্ষার জন্য রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় রাব্বিকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছোট ভাই মুহাম্মদ রিয়াদও গুরুতর আহত হন।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেক হামলায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ২০১৮ সালের পুরোনো শত্রুতা এবং এলাকাকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় নিহত রাব্বির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার খালেককে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও