বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-টানপাড়াকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সচেতনতা র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগ ও সার্বিক সহযোগিতায় এবং নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সমন্বয়ে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
রোববার সকাল ১০টায় নিকুঞ্জ-২-এর বটতলা থেকে সচেতনতামূলক র্যালিটি শুরু হয়। র্যালিটি জাহিদ ইকবাল চত্বর অতিক্রম করে জামতলার শেষ মাথায় গিয়ে শেষ হয়। এতে নিকুঞ্জ-টানপাড়ার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, তরুণ সমাজ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা দেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিষ্কার করেন। র্যালির মাধ্যমে টানপাড়া ও জামতলার বাসিন্দাদের যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুধু এক দিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো সপ্তাহজুড়ে টানপাড়ার বিভিন্ন সড়ক, গলি, ড্রেনের আশপাশ, জনসাধারণের চলাচলের স্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি জাহিদ ইকবাল বলেন, “পরিচ্ছন্নতা কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। একটি আবাসিক এলাকার পরিবেশ সুন্দর রাখতে হলে নাগরিকদেরও সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা চাই, আজকের এই কর্মসূচি একটি দিনের অভিযান হয়ে না থেকে নিয়মিত সামাজিক উদ্যোগে পরিণত হোক।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু ময়লা পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। কোথায় ময়লা ফেলতে হবে, কীভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে এবং ড্রেন বা পানি নিষ্কাশনের পথে যাতে কোনো ধরনের বর্জ্য না যায়—এসব বিষয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে। ‘আমার এলাকা, আমার দায়িত্ব’—এই মানসিকতা তৈরি করতে পারলেই নিকুঞ্জ-টানপাড়াকে সত্যিকার অর্থে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।”
সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার বলেন, “আমরা চাই টানপাড়ার প্রতিটি সড়ক ও গলি পরিচ্ছন্ন থাকুক।
এ জন্য সপ্তাহজুড়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে কর্মীরা যতবারই পরিষ্কার করুন না কেন, বাসিন্দারা সচেতন না হলে সেই পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা কঠিন।”
তিনি বলেন, “বাড়ির বর্জ্য রাস্তা, ফুটপাত কিংবা ড্রেনে না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা চাই, ডিএনসিসির সহযোগিতায় এই কার্যক্রমকে একটি ধারাবাহিক কর্মসূচিতে রূপ দিতে।”
র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি জাহিদ ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক এ এম আইয়ুব পাপ্পু, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্বপন, নির্বাহী সদস্য আলতাফ হোসেন, মাহফুজুর রহমান, তাসবির ইকবাল, আক্তার হোসেনসহ সোসাইটির সদস্য ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আয়োজকেরা জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য শুধু রাস্তা থেকে ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে ফেলা নয়। এর পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, ড্রেন ও পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্ন নাগরিক আচরণ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি পরিচ্ছন্ন আবাসিক এলাকার জন্য নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নাগরিকদের আচরণেও পরিবর্তন দরকার। তাই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সঙ্গে সচেতনতামূলক প্রচারও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিকুঞ্জ-টানপাড়ার বাড়ির মালিক, ব্যবসায়ী, তরুণ সমাজ, সামাজিক সংগঠন, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের বাসিন্দাদের এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ডিএনসিসির সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ধীরে ধীরে নিকুঞ্জ-টানপাড়ার প্রতিটি সড়ক, গলি ও জনপরিসর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।
‘আমার এলাকা, আমার দায়িত্ব’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতার এই উদ্যোগকে একটি নিয়মিত সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চান আয়োজকেরা।