ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরো বড় পরিসরে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। এই লক্ষ্যে ইসরায়েলে অতিরিক্ত কয়েক ডজন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান মোতায়েন করতে চায় ওয়াশিংটন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সূত্র দিয়ে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এই তথ্য জানিয়েছে।
অ্যাক্সিওস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে এক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক সামরিক বিকল্প পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্তটি আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের বিবেচনায় থাকা সামরিক পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো।
এ ছাড়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ আরো মাটির নিচে পুঁতে ফেলার উদ্দেশ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত আঘাত এবং দেশটির নির্মাণাধীন ভূগর্ভস্থ পিকাক্স মাউন্টেন সাইটে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনাও টেবিলে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এই অভিযান সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও একটি বৃহত্তর আক্রমণের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। এই সম্ভাব্য হামলার মূল লক্ষ্য হলো—তেহরানকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করা এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত মার্কিন শর্তগুলো মেনে নিতে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা।
এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা বেশ কয়েক দিন ধরে হরমুজ প্রণালী ও দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রসদ, গোলাবারুদ ও অতিরিক্ত সৈন্য চলাচল ব্যাহত করার লক্ষ্যে মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এর একটি প্রধান সরবরাহ কেন্দ্রের কাছে বন্দর আব্বাসের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। এমনকি সিরিয়ায় একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইআরজিসি, যদিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে মার্কিন সেনারা কয়েক মাস আগেই সেই ঘাঁটি থেকে সরে গিয়েছিল।
বর্তমানে ইসরায়েলের তেল আবিবের নিকটবর্তী বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৩০টি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের রামোন বিমানবন্দরে সমসংখ্যক মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন রয়েছে। ওয়াশিংটন আগামী দিনগুলোতে এই বিমানবহরকে সংঘাতের শুরুর দিকের পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে আরো কয়েক ডজন বিমান পাঠাতে চায়।
আঞ্চলিক অন্য ঘাঁটিগুলো ইরানি মিসাইল হামলার ঝুঁকিতে থাকায় মার্কিন বাহিনী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে বেশি আগ্রহী। তবে এই প্রস্তাবিত বিমান মোতায়েনটি বর্তমানে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের কারণে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমান সেখানে জায়গা দখল করে থাকায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রী মিরি রেগেভ ইতিমধ্যে সেখান থেকে মার্কিন বিমানের সংখ্যা কমানো বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত বিমানের ব্যবস্থার জন্য ইসরায়েলি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে এবং এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হাতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।