অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনস্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইএমএফের সাথে নতুন প্রোগ্রাম হবে। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের নেওয়া আইএমএফ-এর আগের প্রোগ্রামটি ছিল সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী। সেই কর্মসূচিতে এমন অনেকগুলো শর্ত ছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণেই বর্তমান সরকার পূর্বের প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসেছে।
অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের মূল চিন্তা টাকা পাওয়া নিয়ে নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করে, এমন একটি নতুন প্রোগ্রামে আমরা যাচ্ছি। যে কর্মসূচিতেই আমরা যাই না কেন, সেখানে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।
আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের চলমান রাজনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ, প্রবীণ আইনজীবী, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার একজন অত্যন্ত সৎ ও যোগ্য মানুষ ছিলেন। আমাদের রাজনীতিতে তাঁর অবদান অপরিসীম। তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই চলে যাওয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অর্থ মন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা বাড়াতে বর্তমান ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের বর্তমান ভিসা নীতি রিভাইজ বা সংশোধন করা দরকার। এই নীতিকে আরও সহজ ও আধুনিক করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভিসা নীতি আধুনিকীকরণের ফলে দেশে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হবে।