বিগত দিনগুলোতে সংঘটিত ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাটের পুঁজি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপর্যয় দেশের অর্থনীতির চরম সর্বনাশ ডেকে এনেছে। ব্যাংক ও বিভিন্ন অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে জাতীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা একটি অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপের ওপর এসে দাঁড়িয়েছি। তবে এই চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলতে এবং অর্থনীতিতে পূর্ণ সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান জাতীয়তাবাদী সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আজ শনিবার (১১ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ের ‘পদ্মা-মেঘনা’ হলে আয়োজিত বর্ণাঢ্য ‘কালার্স মাল্টিমিডিয়া স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি এসব কথা বলেন।
কালার্স মাল্টিমিডিয়ার উপদেষ্টা ও বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং বিশিষ্ট কবি ও সাংস্কৃতিক সেবী রিজভী হাসান রিজভী। অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের কৃতি ব্যক্তিত্বদের মাঝে ‘কালার্স মাল্টিমিডিয়া স্টার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বিজয়ী গুণীজনদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী মানুষের জীবনের সঞ্চয় ও বিমার গুরুত্ব বিশদভাবে তুলে ধরে বলেন, বিমা সেবার সাথে মানুষের জীবনের এক পরম আত্মিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জড়িয়ে রয়েছে। সঞ্চয়ের কোনো বিকল্প নেই। এটি মানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষা করে, মানুষের ব্যক্তিত্বের ভিত শক্ত করে, যার ফলে কাউকে আর মিথ্যের আশ্রয় নিতে হয় না বা কারও কাছে হাত পাততে হয় না। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বিমা সেবায় অনন্য অবদানের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট বিমা ব্যক্তিত্ব বিএম ইউসুফ আলীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়মুখী হওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় পুঁজি ও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “শিল্প ও বাণিজ্যই একটি দেশের জাতীয় পুঁজি গড়ে তোলে। দেশীয় শিল্প শক্তিশালী হলে বিদেশী পণ্যের আগ্রাসন থেকে জাতি মুক্তি লাভ করে। বিগত দিনে সুপরিকল্পিত দুর্নীতির মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্প, বস্ত্র শিল্প ও চামড়া শিল্প ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে দেশ উৎপাদনবিমুখ হয়ে চোরাচালান ও আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে সমাজে এক শ্রেণীর দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী ও নৈতিকতাহীন গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে, যারা মাদক বিস্তার এবং বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। বর্তমান সরকার দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং একটি ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ বা টেকসই দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমাদের সরকার একটি খাঁটি জাতীয়তাবাদী সরকার। আমাদের প্রধান দায়িত্বই হলো জাতীয় অর্থনীতি ও স্বার্থের সুরক্ষা দেওয়া। অতীতে ব্যাংক লুটপাটের কারণে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে আস্থা হারিয়েছিলেন এবং অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করছিলেন। কিন্তু এখন আর চিন্তার কোনো কারণ নেই; আপনাদের কষ্টার্জিত অর্থ জাতীয় অর্থনীতির বিকাশে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। আপনারা নির্ভয়ে বৈধ ব্যাংকিং পথে রেমিট্যান্স পাঠান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতের বিপর্যয় নিয়ে মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষা খাতকে কৃত্রিম পাসের হার বাড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা সংস্কৃতির সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনতে চাই। অভিনয় ও সংগীত মানুষের জীবনের কথা বলে। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ বা ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এর মতো বাস্তবধর্মী ও জীবনসংগ্রামের কন্টেন্ট আমাদের তৈরি করতে হবে। পপ সংগীত কিংবা আধুনিক যে ধারাই হোক না কেন, তা যেন আমাদের লোকসংগীত ও নিজস্ব ঐতিহ্যের মূল ধারাকে ধারণ করে।
অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য হুসনে আরা রফিক ও মো. আহমেদ জুয়েল, আবাসন শিল্পে অবদানের জন্য সারোয়ার খোকন, মানসম্মত চিকিৎসা সেবায় ডা. রামিসা ফারিহা, অভিনয় শিল্পে প্রিয়মণি, সংগীতে হুমা ব্যাপারী এবং মডেলিংয়ে আরজিন নিশিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। মন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের জীবনমুখী ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।