সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
গাজায় ৩,৪৬৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল ওস্তাদ আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের ভূমি রক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বদলীয় মানববন্ধন কুড়িগ্রামে বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি ২০ গ্রামের মানুষ করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী বাগদানের ইঙ্গিত, কাকে বিয়ে করছেন অভিনেত্রী নাজনীন নীহা? যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী মুজিবনগর সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধা ব্রাজিল জিতুক, তবে জাপান যেন না হারে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সকল রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান আফাজ উদ্দিনের উত্তরায় বসবাসরত বগুড়াবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ-পরবর্তী গেট-টুগেদার ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

ব্রাজিল জিতুক, তবে জাপান যেন না হারে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশে আজ মানুষ ব্রাজিলের জন্য দোয়া করবে। লাখো মানুষ জার্সি পরে বসবে টিভির সামনে। অনেক জায়গায় বসানো হবে বড় পর্দা। ব্রাজিলের খেলা এ দেশে কখনোই শুধু ব্রাজিলের খেলা নয়। এক ধরনের সামাজিক উৎসব। হলুদ-সবুজ রঙ এই দেশে বহু মানুষের শৈশব, আবেগ আর ফুটবল-ভালোবাসার রঙ।

তবু আজকের ম্যাচে সেই আবেগের ভেতর একটু অন্যরকম টান আছে। বাংলাদেশের অনেকেই চাইবেন ব্রাজিল জিতুক। কিন্তু যারা ফুটবল দেখেন, তারা চাইবেন না যে জাপান হারুক। কারণ জাপান এবার এমন ফুটবল খেলেছে যে তাদের বিদায় মানে শুধু একটি দলের পরাজয় নয়, একটি সুন্দর গল্পেরও থেমে যাওয়া।

এই ম্যাচের আগে দুই দলের পথচলা দেখলেই বোঝা যায়, ব্রাজিল ফেবারিট হলেও জাপানকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউটে উঠেছে। মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্র দিয়ে শুরু, এরপর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে ৩-০ করে হারানো। তিন ম্যাচে ৭ গোল, হজম মাত্র ১টি। গোল ব্যবধান +৬। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এমন হিসাব অচেনা নয়, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ওপর প্রত্যাশা শুধু জয়ের নয়, ছন্দেরও। প্রথম ম্যাচের অস্বস্তির পর শেষ দুই ম্যাচে টানা ৩-০ জয় দেখিয়েছে, তারা আবার নিজেদের চেনা গতিতে ফিরছে।

কিন্তু জাপানের সংখ্যাগুলোও কম কথা বলে না। তারা গ্রুপ পর্বে অপরাজিত ছিল। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ ড্র, তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৪-০ জয়, সুইডেনের সঙ্গে ১-১ ড্র। তিন ম্যাচে ৭ গোল। শুধু গোল নয়, জাপান দেখিয়েছে পরিকল্পনা, গতি, শৃঙ্খলা আর সাহস। ইউরোপীয় শক্তি নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের বিপক্ষে ড্র, তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বড় জয়। সব মিলিয়ে জাপান নিজেদের প্রমাণ করেছে তারা এবার  বিশ্বকাপ জিততেই এসেছে।

তাই আজকের ম্যাচ শুধু ব্রাজিল বনাম জাপান নয়। এটি ঐতিহ্য বনাম বিবর্তন। একদিকে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল। পাঁচ-পাঁচটি ট্রফি। অসংখ্য কিংবদন্তি আর গল্প। ফুটবলের শিল্পরূপের এক দীর্ঘ ইতিহাস। অন্যদিকে জাপান। যারা ধীরে ধীরে, পরিকল্পিতভাবে, নিজেদের ফুটবলসংস্কৃতি গড়ে আজ এমন জায়গায় এসেছে, যেখানে আজ ব্র্রাজিলের মতো বড় দলও তাদের নিয়ে আলাদা করে ভাবছে।

বাংলাদেশের ব্রাজিলপ্রেমের গল্প পুরোনো। এই দেশে বিশ্বকাপ এলেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকায় শহর-গ্রাম ঢেকে যায়। কেউ হয়তো ব্রাজিলকে ভালোবেসেছেন পেলের গল্প শুনে। কেউ রোমারিও-বেবেতোর সময় থেকে। কেউ রোনালদো-রিভালদো-রোনালদিনহোর জাদু দেখে। কেউবা নেইমারের ড্রিবলিংয়ে। যুগ বদলেছে। কিন্তু সমর্থনের এই পরম্পরা পাল্টায়নি।

তবে আজকের ব্রাজিল-সমর্থকের মনেও জাপানের জন্য জায়গা তৈরি হয়েছে। তাদের খেলায় অহংকার নেই। অকারণ নাটকীয়তা নেই। আছে শৃঙ্খলা। তারা বল পেলে দ্রুত ওঠে, বল হারালে দল বেঁধে ফিরে আসে। একজন খেলোয়াড় সামনে গেলে আরেকজন তার জায়গা ঢেকে দেয়। একজন চাপ দিলে আরেকজন পেছন থেকে রুট বন্ধ করে। হাই প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন, কম্বিনেশন প্লে, দলগত ভারসাম্যসহ আধুনিক ফুটবলের যে কথাগুলো আমরা শুনি জাপান সেগুলো মাঠে  করে দেখিয়েছে।

এই জাপানকে দেখে এশিয়ার ফুটবলও নিজের মুখ দেখতে পায়। বহুদিন ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে এশিয়ান দলগুলোকে দেখা হয়েছে লড়াকু হিসেবে, সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে নয়। জাপান সেই ধারণা বদলাচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দারুণ ড্র, তিউনিসিয়াকে চার গোল দেওয়া, সুইডেনের সঙ্গে লড়াই করে পয়েন্ট নেওয়া। এসব দলটির মানসিকতা বদলের প্রমাণ। আর সেজন্যই আজ আমাদের চাওয়া- ব্রাজিল জিতুক, তবে জাপান যেন না হারে।

কীভাবে সম্ভব? ফুটবলে তো এক দল জিতবে, আরেক দল হারবে। কিন্তু সব হার সমান নয়। কিছু হার মাথা নিচু করে, কিছু হার মাথা উঁচু করে। কিছু হার দলকে ভেঙে দেয়। কিছু হার দলকে আরও বড় করে। জাপান যদি আজ ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করে, যদি তাদের সংগঠিত ফুটবল, গতি, সাহস ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখে, তবে স্কোরবোর্ডে হারলেও তারা আসলে হারবে না।

ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি সহজ হবে না। ইতিহাস অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষে। কিন্তু সাম্প্রতিক স্মৃতি জাপানের পক্ষে। গত অক্টোবরে এক প্রীতি ম্যাচে জাপান ব্রাজিলকে ৩-২ হারিয়েছিল। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাই জাপানকে যথেষ্ট সমীহ করছেন।

তাই আজ রাত জাগবেন ফুটবলভক্তরা। ব্রাজিল গোল করলে বাংলাদেশের অনেক ঘরে উল্লাস উঠবে। কিন্তু জাপান যদি গোল খেয়েও ভেঙে না পড়ে, শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করে, ছোট পাস আর দ্রুতগতির ফুটবলে ব্রাজিলকে অস্বস্তিতে রাখে তবে সেটাও হবে ফুটবলের সৌন্দর্য।

বাংলাদেশের ব্রাজিল-সমর্থকেরা নিশ্চয়ই চাইবেন, প্রিয় দল জিতুক। তবে ফুটবলপ্রেমী হিসেবে আরেকটি চাওয়াও থাকবে জাপান যেন মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়ে। স্কোরবোর্ডে হারলেও যেন তাদের ফুটবল না হারে।

কারণ সব পরাজয় একই রকম নয়। কিছু পরাজয় শুধু ফলাফলে লেখা থাকে, মানুষের মনে নয়। আজ তাই চাওয়া একটাই-ব্রাজিল জিতুক, তবে জাপান যেন না হারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102