শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহারুল আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। রোববার (১৪ জুন) জারি করা এক অফিস আদেশে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, রাজউক কলেজ পরিচালনা পর্ষদের ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ১২৫তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, কলেজে ফের যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় এবং বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একাংশ তার অপসারণের দাবি জানানোয় তদন্ত চলাকালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ১৫ জুনের মধ্যে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের দোসর এবং জুলাই আন্দোলনে ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত আজহারুল আলমকে পুনরায় কলেজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আজহারুল আলমের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তিনি বেতন-ভাতা পেয়েছেন এবং সম্প্রতি তাকে আবারও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা তার স্থায়ী অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রিন্সিপাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল হক আহমেদ শিক্ষার্থীদের সামনে এসে বক্তব্য দেন। শিক্ষার্থীরা কক্ষের ভেতরে বৈঠকের পরিবর্তে সবার সামনে খোলামেলা বক্তব্য দেওয়ার দাবি জানালে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দুই দিনের সময় নেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এ দাবি মানতে নারাজ হন এবং মাঠে বসে তারা আন্দোলন চালিয়ে যান।
সবশেষ, কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহারুল আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে নোটিশ জারি করেন।