শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
আমরা মিলেমিশে কাজ করব : ভারতের নতুন হাইকমিশনার সৌরজগতে ঘুরত মঙ্গল-আকারের অজানা গ্রহ, সাহারায় পাওয়া উল্কাপিণ্ডে মিলল প্রমাণ প্রথম ধাপের বিশেষ বৃত্তি পেলেন জবি শিক্ষার্থীরা সহসা বৃষ্টি না হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র খেলোয়াড়দের নিয়ে ‘ঐতিহাসিক’ নিয়ম আনল ফিফা ফ্রান্সে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল নাগরিক সমাজের বৈঠক, দুই রাষ্ট্র সমাধানে জোর ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ‘৫-জি’ পৌঁছে দিতে চায় সরকার টবের মাটি অতিরিক্ত শক্ত হয়ে গেছে? কীভাবে নরম করবেন ‘হার্ট অব দ্য বিস্ট’ নিয়ে ফিরছেন ব্র্যাড পিট দেশে ফিরেছেন কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম থেকে উদ্ধার ৩৭ বাংলাদেশি

উত্থাপিত বাজেট সম্পূর্ণ ‘ক্রিয়েটিভ’: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

২০২৬- ২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা বান্ধব একটি ‘ক্রিয়েটিভ’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে এটি একটি ক্রিয়েটিভ বাজেট।

শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের দিক তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর ফলে অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সচল হবে এবং আমরা আশা করি যে, খুব দ্রুত বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তার চিন্তা-ভাবনাগুলোকে নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেব অর্থ মন্ত্রণালয়ের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করেছেন।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন বসে বিকেল তিনটায়। অর্থমন্ত্রী এই অধিবেশনে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। স্পিকার রবিবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশ করেছেন। এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় গঠনে সরকার কতটা আন্তরিক। একই সঙ্গে সরকার অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে চায়।

এর সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে, সম্পূর্ণ একটা ক্রিয়েটিভ বাজেট বলব আমি এটাকে। এর মধ্যে কতগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যে পদক্ষেপগুলো আমরা কেউ চিন্তাও করতে পারি না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখানে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে, এটা একটা বিশাল ব্যাপার এবং এতে আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবার প্রধান মহিলাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সেখানে ফ্যামিলি কার্ডে খরচ হবে ১ লাখ তিনশ’ ৩৮ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ এই অর্থবছরে। পরে সেটা বাড়তে থাকবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবচেয়ে বড় আমার কাছে যে জিনিসটা সেটা হলো, দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে যারা বিভিন্ন খাতে উৎপাদন করতে যাবেন, বিনিয়োগ করতে যাবেন তাদেরকে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এটা আগে কখনো দেওয়া হয়নি এবং সমস্ত কর রেয়াত দেওয়া হয়েছে এবং অন্য সব রকমের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে এবং যেখানে যেগুলো আমাদের দেশীয় উৎপাদন হয়, সেগুলোকে প্রটেকশন দেওয়ার জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করার ব্যাপারে কর আরোপ করা হয়েছে অর্থাৎ প্রটেকশন পুরোপুরিভাবে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, কৃষির ক্ষেত্রেও সেটা করা হয়েছে এবং আমাদের ক্রিয়েটিভ ইকোনমি যেটাকে বলছে এটা অত্যন্ত নতুন ধরনের একটা চিন্তাভাবনা। স্পোর্টস ইকোনমিতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন করা হবে এবং ইন্টার স্কুল খেলা আবার চালু করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘লোক সংস্কৃতি, হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার প্রসারের চেষ্টা করা হবে। রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে ১৬০ একর জায়গার উপর বিশ্বমানের ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপন করা হবে। এই জিনিসগুলো হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের চিন্তাভাবনা। এগুলা আমাদের অর্থনীতিকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

এসএসই খাতের বিকাশে শর্তে ঋণ বিতরণ, প্রবাসী কার্ড প্রদান, হাইটেক পার্ক প্রভৃতি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, গ্রামীণ সড়ক সংরক্ষণে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখবেন যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আপনার বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপারটা এখানে প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে আইনের সংস্কার ও সহজীকরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে যারা বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করতে আসবেন তারাও উপকৃত হবেন, যারা দেশে বিনিয়োগ করবেন তারা উপকৃত হবেন।

শিক্ষাখাতে জিডিপির  ২ শতাংশ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক ১ এ উন্নীত করার এই দুই খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।

‘করনীতি ও কর ব্যবস্থাপনাকে পৃথক্‌করণ করা হয়েছে। করদাতাদের পরিধিটাকে অনেক বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন হবে, স্বয়ংক্রিয় কর মাধ্যমে উৎস কর যাচাইয়ের সময় কমিয়ে আনা হবে, জনবান্ধব কর প্রশাসন গঠনের মাধ্যমে করের আওতা বৃদ্ধি করা হবে, রপ্তানি সম্ভাবনাময় সকল খাতকে কাস্টমস বন্ডের আওতায় শুল্ক মুক্ত ভাবে কাঁচামাল উপকরণ আমদানি সুবিধা প্রদান করা হবে। এই উদ্যোগগুলো এই বাজেটের সবচেয়ে মূল বিষয়। আমি মনে করি যে এই বাজেট নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা যুগান্তকারী বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।’

বাজেটে মূল্যস্ফীতি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে মূল্যস্ফীতি এমনিতেই কমে আসবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102