বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
ড্রাম ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের নিখোঁজের ৬ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল মামা-ভাগ্নের লাশ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের জার্সি কেনার হিড়িক মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আট দলের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ যুদ্ধে কতটা সফল ইরান? ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে সীমানা চিহ্নিতকরণে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী গ্রামের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রথম কৃতিত্ব শহীদ জিয়ার ….স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেহাত হওয়া রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে আইনি লড়াই জোরদার করা হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

অর্থনীতির আকার বড় হলে লুটও বাড়তে থাকে : শওকত আজিজ রাসেল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আগের যে চলতি বাজেটটি আছে তার ১৯ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে এই বাজেটে।

দেশের অর্থনীতি সংকটকালীন সময় পার করছে। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার, উচ্চ রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ নেই এবং কর্মসংস্থানের নানান সংকট নিয়ে এই সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। চলমান এসব সংকট নিয়ে কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার নিয়মিত আয়োজন দ্যা বিজনেস রিভিউ শোতে কথা বলেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন বা বিটিএমএ-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ফামিদা খাতুন। 

চলমান সংকট নিয়ে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘সংকটটা আসলে প্রকট।

এটার উৎপত্তি হয় যখন ইকোনমির সাইজ বড় হয়। এর পাশাপাশি কিন্তু লুটও বড় আকার নিতে থাকে। রাজকোষের টাকা গায়েব করে দেওয়া, সুইচ টিপে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা চলে যাওয়া, বিভিন্ন নামে বেনামে টাকা বের করে নেওয়া—এসবের প্রতিফলনই আজকে এই জায়গা। ইন্টেরিম গভমেন্ট যখন এসেছিলেন তাদের কিন্তু অনেক কিছু করণীয় ছিল।
আমরা ওগুলো ফ্ল্যাগ করেছি- প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আপনি যদি এই প্রটেকশনগুলা না দেন তাহলে কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে আমাদের ক্রমশ ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ হবে এবং ঠিক তাই হয়েছে। এবং সে টাকার পরিমাণ একটা দেশের কাছে কিন্তু বড় টাকা না। যেখানে আমরা প্লেন কেনার স্বপ্ন দেখছি, রেল কেনার স্বপ্ন দেখছি ব্রিজ বানানোর স্বপ্ন দেখছি, বা করছি—এমনকি আমরা পেমেন্টও করে যাচ্ছি যে প্রকল্পগুলো হয়েছে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘অনেকগুলো প্রজেক্ট আছে যেগুলা কতটুকু রিয়েলিস্টিক বা কতটুকু কস্ট বেনিফিটেড এনালাইসিস করলে উপকার আসতেছে, এটা জাতিও জানে, জনগণও জানে। তো ওগুলার এখন একটা কর্মফল আমাদের আজকের এই অবস্থানটা।

এটা যে বাজেটে ঠিক হয়ে যাবে আমি খুব একটা মানে কনভিন্সড হতে পারছি না। আমি কনভিন্সড হতে পারছি না একটা কারণে—বাজেট আসলে জনগণের এখন একটা প্রত্যাশা। একটা ভালো বাজেট হবে এটা কিন্তু সবারই একটা প্রত্যাশা বা বিএনপি সবসময় ভালো বাজেট দিয়ে আসছে এবারও নিশ্চয় ভালো হবে। কিন্তু হবে কোথা থেকে?’ 

আমরা তো প্রায় ২০ থেকে ৩০ পারসেন্ট পুরানো ডেট নিয়ে চলছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ডেটগুলা কিন্তু আগামী বছরও থাকবে। বরঞ্চ ক্রমশ আরো বড় হবে। তারপরে আছে আপনার অনগোইং খরচ, যেগুলো করতেই হবে। এক্সপেন্সেস গভমেন্টের যে এক্সপেন্সেস আছে সেটা আপনি থামাতে পারছেন না। তাহলে গঠনমূলক কাজ বা টাকা মানে সার্কুলেশনে ইনজেক্ট করার যে সুযোগ, ওই টাকাটা কোথায়? আমরা এখন যে স্বপ্ন দেখছি এতগুলো টাকা আসবে, এভাবে এভাবে খরচ করব, দিজ আর অল উশফুল থিংকিং—আপনার ফসল আসার আগেই আপনি ফসল বিক্রির প্ল্যান করে ফেলেছেন বা গাছে আম ধরার আগে আপনি বিক্রি করে ফেলেছেন, ঘটনাটা এরকম দাঁড়ায়।’

টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, ‘আপনি ক্যালকুলেটর নিয়ে বসছেন এসির রুমে। ইন্টেরিম সরকার অন্তত আমাদের ফ্যাক্টরিতে গিয়ে গ্যাসের মিটার চেক করেছে এবং উনি পরের দিন পত্রিকাতে এটার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এই যে এত বড় বাজেট হচ্ছে সরকারের কোনো অঙ্গ-সংস্থান আমাদের ফ্যাক্টরিতে গিয়ে কি দেখেছে, চালু আছে না বন্ধ? ওয়েদার এই ফ্যাক্টরি চালু করাটা ভাইবল হবে কি হবে না? একে অর্থায়ন করা উচিত হবে কি হবে না? মনে করেন যে গরু দুধ দেবে না তাকে তো আপনি ঘাস খাওয়ায় লাভ নাই। সেটা আপনি স্লটারিং এর জন্য এলোকেট করেন। আর যে দুধ দেবে তাকে আপনি ঘাস খাওয়ালে আপনি কিছু রিটার্ন পাবেন। কই এরকম কোনো এক্টিভিটিই দেখিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘টোটাল বাজেটটাই হচ্ছে এয়ার কন্ডিশন রুমে বসে। বাস্তবতার সঙ্গে তাদের কতটুকু সম্পর্ক আছে। আইম ভেরি ডিসাপয়েন্টেড। আমি মনে করি এখানে কাজ করার সুযোগ আছে। আপনি ভালো ভালো প্রজেক্ট নিয়ে আসবেন। ভালো ভালো বাজেট দেবেন। ভালো ভালো সেক্টরে আপনি বাজেটের নম্বর বাড়িয়ে দেবেন। এটা দেখতে সুন্দর লাগবে। কিন্তু মানুষ যখন খেতে পারবে না, চলতে পারবে না। ১০০ দিনে ৬০০ খুন। এটাই আপনার বাজেটের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত। হয়াই কর্মসংস্থান নাই। কর্মসংস্থান না থাকলে এটা ক্রমশ আরো বাড়বে। আমরা হয়তো গাড়ির গোড়া নিয়ে বাইর হতে পারব না। আমরা গাড়িগুলার পেট্রল কেনার টাকা থাকে কিনা আমাদের সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।’

১৮ মাসের একটা অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সেভাবে সাড়া দেয়নি। তারা আমাদের কথাবার্তাও সেভাবে কর্ণপাত করেনি। আমরা বহু প্রেস কনফারেন্স করেছি। আমরা কস্ট বেনিফিট এনালাইসিস করে দেখিয়েছি সরকারকে যে, আপনি যদি আমাকে এ সেক্টরকে সাপোর্ট দেন আপনার ইনডাইরেক্ট রিটার্ন ইজ ইজ মেনি ফোল্ড অনেক গুণ বেশি আপনি ইনডাইরেক্ট রিটার্ন পাবেন। ওই কাজগুলো তখন করা হয় নাই। সমযোগী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ কখনোই নেয় না। সব আপনার ঘর র যখন আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যায় তখন ফায়ার ব্রিগেড আসে। আমাদের দুঃখটা এখানে, যেখানে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ঘণ্টায় ঘণ্টায় সিদ্ধান্ত নেয়।

এখন দেখেন গত সপ্তাহ কি করল? তারা কটন ইম্পোর্ট এলাও করে দিয়েছে। তারা এত বছর ধরে প্রটেকশন দিচ্ছে। তাদের চাষা, তাদের নিজস্ব কটন, নিজস্ব ভ্যালু এডিশন, নিজস্ব ডলার রিটেনশন তারা উপলব্ধি করল। এই সিজনে এই সময়টার জন্য আমার শট পড়বে। আমার দাম বেড়ে গেলে আমি প্রতিযোগিতামূলক বাজার থেকে বেরিয়ে যাব। ধাম করে তারা করল কি এলাও করে দিল। তো ওদের যে রিএকশন টাইম, ডিসিশন মেকিং টাইম, আমাদের সাথে ম্যাচ করে না। আমাদের তত্ত্বাবধক সরকারের কথাটা আসলো ওই কারণে যে আমার তত্ত্বাবধক সরকার যে সময়টা এক্সজস্ট করেছে বিদেশ ভ্রমণ করেছে যে বিভিন্ন।’

তারা কি আদার ইস্যু নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল উপস্থাপকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি তো তাই মনে করি বা তখনও আমরা বলেছি যে আপনারা অন্য জায়গায় বেশি ফোকাস করছেন, ইকোনমিতেও ফোকাস করছেন না। তাদের তো লাইসেন্স একদিনে পাশ হয়ে গেছে। যাদের যাদের লাইসেন্সের দরকার ছিল, ব্যবসার দরকার ছিল, তাদের লোন স্যাংশনের দরকার ছিল, সবকিছু কিন্তু দিনে দিনে হইছে। আমাদের বেলায় বছর পার করে দিল ১৪ মাস ওইটারই একটা বোঝা কিন্তু বর্তমান সরকার এখন বহন করতেছে। আমাদের ৩০০টা ফ্যাক্টরি এভারেজে টার্নওভার ট্যাক্স একেকটা ফ্যাক্টরি থেকে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা আসে। ৩০০টা বন্ধ হয়ে গেছে। আর একেকটা ফ্যাক্টরিতে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এখানে আছে। সেখানে আপনার যদি বলেন হ্যাঁ আমি ফ্যাক্টরিকে কেন সাপোর্ট দেব? কেনর উত্তর আছে তো? আপনি এটা ইম্পোর্ট করছেন, না করলেই হয়। আপনার এখানে প্রোডাকশন করলে হয়।’

তিনি বলেন, ‘যে জিনিস আপনার দেশে চলবে না, মার্কেট নাই, সেখানে আপনি গিয়ে টাকা ঢেলে দিয়ে আসলে সে টাকা ফেরত আসবে না। আমরা তো কোনো সার্কুলার পাইনি। আমরা খালি শুনছি, ঘোষণা পাচ্ছি। তো এই ঘোষণা দিতে দিতে একটা ফ্যাক্টরিতে ওভারেড আছে তিন থেকে চার কোটি টাকা মাসে। আপনি ঘোষণার সঙ্গে আপনার ইমপ্লিমেন্টেশনের সঙ্গে তো সামঞ্জস্য নাই। আমি বছর পাশ করে দিলে তো আমার বাস্কেটে আরো ৩০-৪০ কোটি টাকা ডেট অ্যাড হচ্ছে। তো আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রম্পলি। হয়তো বলতে হবে, আমি সেক্টরকে পেট্রোল করব অথবা আমি সেক্টরকে ডিজোন করব। দুটার একটাই বলেন।’

ব্যবসা বাজেট হতে যাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ফামিদা খাতুন বলেন, ‘বাজেট তো এখনো আমরা দেখিনি, যতটুকু গণমাধ্যমে এসেছে এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রীর মুখ থেকে যতটুকু শুনতে পাচ্ছি। তারা বলছেন, বাজেটটা ব্যবসাবান্ধব হবে। শুধু ব্যবসা বান্ধব না, শুধুমাত্র যে ব্যক্তি খাতের উন্নয়নের জন্য না, তারা এটাও বলছেন যে, এটা একটা ইনক্লুসিভ বাজেট হবে অর্থাৎ সকলের জন্য কিছু না কিছু থাকবে। তবে মূল বিষয়টা হচ্ছে, ব্যক্তি বিনিয়োগ যদি না হয় তাহলে কিন্তু আবার ইনক্লুসিভও করা যাবে না কারণ এখানে কর্মসংস্থানের কথা উনি বারবার যেটা জোর দিচ্ছেন যে চাকরি কোথা থেকে আসবে। আমাদের অর্থনীতির প্রায় ৯৫ শতাংশ কিন্তু ব্যক্তি খাতের ওপর নির্ভর করে তো এখন দেখেন ধারা ধারাবাহিকভাবেই ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ তো কম স্থবির। এটা আজকে থেকে না, বহু বছর থেকেই। দশকের মতো হয়ে যাবে যে, জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশের মধ্যে আটকে আছে। প্রয়োজন ৩০ মিনিমাম একটা উদীয়মান অর্থনীতির জন্য। তবে আরো একটা বিষয় যে ২৫ অর্থবছরে এটা ২২ শতাংশ নেমে গিয়েছে অর্থাৎ এটা নিম্নগামী হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মতো উদয়মান দেশে ৩০ শতাংশ। চায়নার ৩৫ শতাংশ, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকে তাকান। তো আমরা তো ক্লেইম করছি যে আমরা এলডিসি থেকে বের হয়ে যাচ্ছি। আর কিছুদিন পরে হয়তো ইভেন এক্সটেনশন না হলেও তিন বছর পরে তো আমরা গ্রেস পিরিয়ড পার হওয়ার পরেই কিন্তু আর এই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। অর্থাৎ এটা বলার অর্থ এই যে, ব্যক্তিখাত আরো অনেক প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে যাবে। এখন আছে নিজেদের একটা অস্তিত্বের মধ্যে ডোমেস্টিক মার্কেটে টিকে থাকার জন্য। কিন্তু আমরা তো শুধু ডোমেস্টিক মার্কেট নিয়েই না, আমাদের প্রোডাক্ট বাইরে যেতে হয়।’

গ্লোবালি ইন্টিগ্রেটেড হয়ে আছে আমাদের ইকোনমি উল্লেখ করে ফাহমিদা বলেন, ‘ইকোনমির প্রায় ৪০ শতাংশ কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে রপ্তানি-আমদানি তারপরে বিনিয়োগ রেমিটেন্স ইত্যাদির মাধ্যমে জড়িত আছে। এখন এই ইয়েটা গতিময়তাটা আনার জন্য একটা বিষয় হচ্ছে, আপনাকে অর্থ যোগান দিতে হবে। উনি যেটা বললেন যে অনেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবং সম্প্রতি যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারা ৬০ হাজার কোটি টাকার একটা সাপোর্ট ঘোষণা করেছে। যেটা আর কিনা ১৯ হাজার কোটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দিবে, ৪১ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তার রিফাইনান্সিং করে দেবে। সেখানে স্পেসিফিকালি কোন কোন খাতে কত টাকা দেওয়া হবে এটা বলা আছে।

এটা একটা ভালো উদ্যোগ মনে হচ্ছে ও আশা করি যে এটা যদি ভালোভাবে ব্যবহার হয় এবং যাদের দরকার তাদের কাছে গেলে এটা একটা এইযে ড্রাই আউট হয়ে গেছে। এখানে কিছুটা সাপোর্ট পাবে। তবে মনে রাখতে হবে যে আমাদের অতীতের মতো যে যাদের আসলে প্রয়োজন এবং যারা নিয়ে ওই টাকাটা আসলে কাজে ব্যবহার করতে পারছে সেরকম একটা ক্লোজ মনিটরিং-এর বিষয় রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাজেটারি সাপোর্টে আরো কয়েকটা বিষয় রয়েছে। যখন আমরা রপ্তানি কিংবা আমদানি করি তখন এখানে একটা ফিসকাল মেজার থাকে ফিসকাল পলিসির। তো আমাদের এক্সপোর্ট খাতের মধ্যে আরএমজি সেক্টরটা অনেকদিন থেকে অনেক ধরনের কিন্তু সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে। ফর এক্সাম্পল আপনের এক্সপোর্ট ইনসেন্টিভ যেগুলো কিংবা ইম্পোর্টের ক্ষেত্রে যদি বলে আমাদের যে ট্যারিফের ক্ষেত্রে ট্যারিফ প্রটেকশন এগুলো ছিল। কিন্তু এই সিনারিওটা বন্ধ হয়ে যাবে কিছুদিন পরে। তো তাহলে তার মানেটা হচ্ছে কি? আমাদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এই দাঁড়ানোর জন্য যতখানি সহায়তা, রাস্তাঘাট অবকাঠামো, বিদ্যু, জ্বালানি, তারপরে হচ্ছে যে পোর্ট ফ্যাসিলিটি এটা মানে এটাকে বেগবান করা, প্রযুক্তি, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, এই সমস্ত যদি ঠিক না করি এগুলো স্ট্রাকচারাল ইস্যু একটা হয়ে আছে। এগুলো ঠিক না করলে আপনি শুধুমাত্র একটা ফ্যাক্টরি একটা আপনি এক জায়গায় দিলেনকে অনুষঙ্গ তাহলে কিন্তু ঠিক হলো না।’

ঘাটতি বাজেটের বিষয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এটা একটা ভীষণ একটা চিন্তার বিষয় যে আসলে অর্থায়ন যেহেতু নাই আমাদের বাজেট ঘাটতি পূরণ করার জন্য, বাজেটের বাজেট পূরণ করার জন্য কিংবা বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আমাদের একমাত্র মানে অন্যতম একটা উৎস হচ্ছে রাজস্ব। তা এখন আমাদের রাজস্ব ঘাটতি তো একটা এটাও একটা পেরিনিয়াল। যেমন আপনার ব্যক্তিঘাতের বিনিয়োগের কথা বললাম। এরকম রাজস্ব ঘাটতিটাও গত ১০ বছর থেকে ২০১৭ থেকে ক্রমান্বয়ে এটা টার্গেট ফুলফিল করতে পারছে না। কিন্তু তার বিপরীতে তাকে একটা বিরাট একটা টার্গেট কিন্তু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন সক্ষমতা নাই কিন্তু ওই টার্গেটটা আছে। তো কখনোই এটা কিন্তু পূরণ করতে পারবে না। এবং যেহেতু এখন বাজেটের আকার বেশি, রাজস্ব আহরণের মাত্রাটাও বেশি। কিন্তু তার বাইরেও একটা ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রতিবছর আপনি যেটি বললেন যে এই চলতি অর্থবছরেও কিন্তু এক লক্ষ কোটি টাকার উপরে এক লক্ষ দুই হাজার কোটি টাকার মতো কিন্তু ইতিমধ্যে ব্যাংক থেকে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী বছরে আরো বড় টার্গেট। এখন এখন ব্যক্তি খাতের চাহিদা নাই। যদি আমি ধরে নিচ্ছি যে আগামী এক বছরের মধ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হলো। তখন তো ব্যক্তি খাতের চাহিদা থাকবে, অর্থ লাগবে। তো এটা একটা ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট অবশ্যই আসবে। তার মানে তখন কি হবে? তখন তো সুদের হার আরো বেড়ে যাবে। এখনই কিন্তু বেশি, এখনকার বাস্তবতা হচ্ছে যে মূল্যস্ফীতি বেশি এই কারণে আপনার কন্ট্রাকশনারি মনিটারি পলিসি ফলো করতে হচ্ছে। তো তখন যদি আপনের লিকুইডিটি না থাকে ব্যাংকে, তখন তো সুদের হার আরো বাড়বে। তো এইরকম আসলে একটা হোলিস্টিক চিন্তার প্রয়োজন রয়েছে।

ঘাটতি মেটানোর প্রথম কথা যে ঘাটতি আস্তে আস্তে আমাদেরকে কমিয়ে আনতে হবে। ঘাটতি বাজেট কোনো খারাপ বিষয় না। অনেক দেশেই সেটা করে থাকে কিন্তু আপনি অর্থায়নের জায়গাগুলি কোথায়, আমার আরেকটা জায়গা আছে। এক্সটারনাল সোর্স থেকে বাজেটারি সাপোর্ট আর যেটা বললেন যে যেই টাকাটা আছে সেই টাকাটা আমি যথেষ্ট সুশাসনের সাথে একাউন্টেবিলিটির সাথে ব্যয় করছে কিনা এটাই হচ্ছে। আমাদের এখানে তো অপচয়ের একটা ইতিহাসই আছে। লিকেজ, ওয়েস্টেজ, করাপশন এইগুলোর ওপর যদি নজর না দেওয়া হয় তাহলে আমাদের অর্থনীতির একটা বিরাট অংশ কিন্তু ওই খাতেই চলে যাবে। তখন আপনার এই যে রাজস্বের আদায়ের ওপরে জোর দিচ্ছে। কিন্তু রাজস্বটা যদি আবার ভালোভাবে ব্যবহার না হয় তাহলে আপনার ওখানে কোনো সাশ্রয় হবে না। আরো একটা কথা এই যে বলি যে আমাদের এখানে কর ফাঁকি দেওয়া হয় যত মানুষের এত জনগণ করযোগ্য আয়ের মধ্যে পড়ে কিন্তু তাদের কোনো টিন নম্বর নাই, যাদের আছে তারা কর দিচ্ছে না। একটা মোটিভেশনেরও দরকার আছে।

মানুষ যখন দেখে যে তার টাকা দিয়ে কি হচ্ছে, সে কি কোনো সেবা পাচ্ছে কিনা, পাবলিক সার্ভিস জিনিস সেটা পাচ্ছে কিনা, কিংবা তার টাকা দিয়ে যে অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে সেখানে কি দুর্নীতি হচ্ছে কিনা, সেটা কি দুর্নীতির মধ্যে টাকাটা চলে যাচ্ছে কিনা, ওগুলো কিন্তু মানুষকে মোটিভেট করার জন্য কিংবা ডিমোটিভেট করার জন্য একটা অন্যতম কারণ। তো ওই বিষয়গুলি কিন্তু দিতে হবে। আপনি হ্যাঁ ড্রাইভ দিবেন অটোমেশন করে মানুষকে নিয়ে আসবেন। কিন্তু ইন রিটার্ন আপনি কি দিচ্ছেন? এমনকি আপনার এই যে ব্যাংকের টাকাগুলি যে চলে গেল ওইগুলো তো মানুষেরই টাকা। আমানতকারীদের টাকা। তো সাধারণ মানুষ কিন্তু আপনার ইকোনমিতে যে পার্টিসিপেট করবে, তারা তো দিচ্ছে কিন্তু রিটার্নটা সেইভাবে পাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102