জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্থানীয় বেকার যুবক, নারী উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক খামারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বাবলম্বী করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
বেকার তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বিভিন্ন ট্রেডে হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান সহ তারা যাতে খুব সহজে চাকরি পেতে পারে বা নিজেরাই একজন উদ্যোক্তা হতে পারে সে আলোকে এই পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরির আশায় না থেকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য এ উদ্দ্যেগ হাতে নিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার (০১ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে বিভিন্ন কোডে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহনের নিমিত্তে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা অঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বেকার যুবকদের আধুনিক কৃষি, মৎস্য চাষ ও গবাদিপশু পালনে সরকারি প্রকল্পের আওতায় সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালসমূহে স্থানীয় জনসাধারণ সরকারি সুবিধা সহজতর এবং যুবকদের প্রশিক্ষণ গ্রহনে সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রাচীর নির্মান, ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভবন মেরামত এবং আয়রণমুক্ত পানির পাম্প স্থাপনের লক্ষ্যে উদ্দ্যেগ নিয়েছেন তিনি।
এনিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ্ খান বলেন, এই উদ্যোগ শুধু প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, দারিদ্র্য কমানো এবং শহরমুখী অভিবাসন হ্রাসের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলেও আশা করা করছি। উপজেলা পর্যায়ে স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য স্থানীয় বেকার যুবক, নারী উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক খামারীগদের হাতকে কাজে লাগাতে পারলে বদলে যাবে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা। ধন্যবাদ জানাই আমাদের অভিভাবক, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়কে এই উদ্দ্যেগ গ্রহনের জন্য।
বিশিষ্ট সমাজসেবক এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্ বলেন, মাননীয় ডেপুটি স্পীকার এমপি নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিনমাসে ওনার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে যে প্রকল্প গুলো হাতে নিয়েছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আর কোন সংসদ সদস্যই তা করতে পারেননি। ইতোমধ্যে এলাকার বেকার যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর ও যুবকদের স্বনির্ভর করে তুলতে যে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন এতে ওনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ অমিত দত্ত বলেন, মাননীয় ডেপুটি স্পীকার স্যার স্থানীয় যুবকদের কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে যে উদ্দ্যেগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকায় অনেক আদিবাসী শিক্ষিত তরুন-তরুনী রয়েছে, যাদের নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে পারলে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা ঘুরে যাবে, সেইসাথে মাদক ও নানাবিধ অপকর্ম থেকে দুরে থাকবে যুব সমাজ।
[8:59 PM, 6/5/2026] Taraq jaman: সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি ও গ্রামবাসীর পাহারা
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ব্যাপক কর্তৃক পুশ-ইনের চেষ্টার খবরের মধ্যেই নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর সহ বিভিন্ন সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসঙ্গে গত ৪ জুন জেলার দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৩৭ জনকে পুশ-ইনের যে খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ‘সঠিক নয়’ বলে স্পষ্ট জানিয়েছে বিজিবি।
শুক্রবার (৫ জুন) নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) পরিচালক ও অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) কর্তৃক এক প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক পুশ-ইন করানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বর্ডার অবজারবেশন পোস্ট (বিওপি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে এ ধরনের কোনো পুশ-ইন যেন না ঘটে, সেজন্য বিজিবির সকল বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সীমান্তের সম্ভাব্য পুশ-ইনের স্থানগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করে সেখানে সার্বক্ষণিক টহল ও কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বিএসএফকে বিজিবির জোরালো উপস্থিতির কথা জানান দেওয়ার জন্য মেগাফোন, সার্চলাইট এবং বাঁশি ব্যবহার করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন সময় গ্রামবাসীর সহায়তায় সীমান্তে টহল পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও নিজস্ব সোর্সের (উৎস) মাধ্যমে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
এনিয়ে গত ৪ জুন বেশ কিছু পত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৩৭ জনকে বিএসএফ পুশ-ইন করার চেষ্টা করেছিল এবং বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাঁধায় তা ব্যর্থ হয়েছে। এ খবরের সত্যতা নাকচ করে বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এই তথ্যটা সঠিক নয়। আমাদের টহলের অংশ হিসেবে বিজিবি ও গ্রামবাসীসহ সীমান্তে যৌথ টহল কার্যক্রম করেছিলো মাত্র। তবে ভবিষ্যতে পুশ-ইন সংক্রান্ত কোনো বাস্তব তথ্য বা ঘটনা ঘটলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..