বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

বৃক্ষ নিধন পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
জাতীয় বন ও বৃক্ষ নিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে গাছ কাটা ও বন উজাড়ের ঘটনা ঘটছে।উন্নয়ন প্রকল্প, নগরায়ণ, শিল্পায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, কৃষিজমির সম্প্রসারণ এবং কাঠ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বনভূমি ও বৃক্ষ আচ্ছাদনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।আজ বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে ‘গাছ নিধন মিডিয়া মনিটরিং ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-২০২৬’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তারা। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি), গ্রিন ভয়েস, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, ব্রাইটার্স এবং ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিআরসির কোষাধ্যক্ষ ও গবেষক দলের উপদেষ্টা সদস্য আমিনুর রসুল বাবুল।আলোচনায় অংশ নেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস, গ্রিন সেভারসের প্রতিষ্ঠাতা এহসান রনি, কাপের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার রেবেকা সানইয়াত, জলবায়ু গবেষক আসিফ মাহমুদ চৌধুরী, ব্রাইটার্সের প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমান সিয়াম, আরডিআরসি’র গবেষক শুভাষীস দাস শুভ, ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের শাকিল আহমেদ, গ্রীন ভয়েসের সহ-সমন্বয়ক ফাহমিদা নাজনীন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে আমিনুর রসুল বলেন, ‘২০২৫ সালের মে থেকে ২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে দেশে মোট ৫২ হাজার ৩৭৫টি বৃক্ষ নিধনের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যা ২০২৪-২৫ বছরের তুলনায় ৭১.২ শতাংশ কম।এর মধ্যে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ৪১টি ও কক্সবাজারে ১১ হাজার জেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃক্ষ নিধনের তথ্য পাওয়া গেছে। বৃক্ষ নিধন কমাতে ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, বন আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। টেকসই কৃষি ও কৃষিবনায়ন সম্প্রসারণ করতে হবে। নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করতে হবে। বনের উপর আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিকল্প জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।’অনুষ্ঠানে ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বৃক্ষনিধন ও বন উজাড়ের কারণে মাটিক্ষয়, ভূমিধস, জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস, প্রাকৃতিক আবাসস্থল নষ্ট এবং পরিবেশগত অবক্ষয় ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বনভূমি সংকুচিত হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ছে এবং এক বছরে বৃক্ষনিধন ৭১ শতাংশ কমেছে। সরকার বৃক্ষনিধন বন্ধের পাশাপাশি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের উদ্যোগ নিয়েছে।’বৃক্ষনিধন বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘বৃক্ষনিধন বন্ধসহ পরিবেশ সুরক্ষায় আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা গেলে বৃক্ষনিধন অনেকটাই কমে আসবে।’ পরিবেশগত অপরাধ দমনে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি তা সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে, এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তবে কোথায় কোন গাছ লাগাতে হবে, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।’ পরিবেশ আদালত আইনসহ সব আইন ও নীতিমালা কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

আরডিআরসি’র গবেষক শুভাষীস দাস শুভ জানান, আরডিআরসি ২০২৩ সাল থেকে দেশে  বৃক্ষনিধন ও বন উজাড় নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণা ও মিডিয়া মনিটরিং রিপোর্ট করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত এক বছরে বাংলাদেশে সংঘটিত বৃক্ষনিধন ও বন উজাড়ের চিত্র তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102