বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী শহরের খালপাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার দিনু মিয়া পেশায় একজন সেলুনকর্মী। তিনি আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর এলাকার রামধননগর গ্রামের ইসহাক মিয়ার ছেলে। এর আগে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামধননগর গ্রামে ওই গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারীর ভাই জেহাদ ইসলাম জানান, যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা দেয়ার জন্য তার বোন মীমকে চাপ দিচ্ছিলেন স্বামী দিনু মিয়া ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এতে সাড়া না দেয়ায় তার বোনকে প্রায়ই মারধর করা হতো। বিয়ের পর থেকেই প্রায়শই এমন নির্যাতন করা হতো বলে দাবি করেন তিনি। জেহাদ আরও জানান, মীমের সাত বছরের সংসারে মাহদী ইসলাম নামের পাঁচ বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী মীম আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী ব্যবসার জন্য ৫ লাখ টাকা এনে দিতে বলে। আমি সময়মতো বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাল ও হাতে আঘাত করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে আমার শাশুড়ির সহযোগিতায় আমার মাথার চুল কেটে দেয়।’
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা মীমকে উদ্ধার করে কাটা চুলসহ প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মাথার কাটা চুল নিয়ে তিনি আখাউড়া থানায় গিয়ে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি দ্বিন ইসলাম দিনু মিয়াকে নরসিংদী সদর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে দিনু মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।