রাজধানীর উত্তরায় গভীর রাতে অটোরিকশাযাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারসহ এক চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১ মে) রাতে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাঁচ থেকে ছয়জন একটি প্রাইভেটকারে এসে চাপাতি ও রামদা দেখিয়ে গহনা, মোবাইল ফোনসহ যা পেয়েছে সব নিয়ে গেছে। এ সময় ভুক্তভোগী ও আশপাশের লোকজন চিৎকার করলে তারা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সাংবাদিকের সহযোগিতায় আব্দুল্লাহপুর পেপার মিল রোড থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত গাড়িটি আটক করা হয়। পুলিশ এসে গাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ফোন এবং তিনটি ধারালো অস্ত্র জব্দ করে। পরে অভিযান চালিয়ে প্রাইভেটকারের চালক রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
ডাকাতির কবলে পড়া ভুক্তভোগী নারী বলেন, ডাকাতরা অস্ত্র ঠেকিয়ে গলার চেইন, মোবাইলসহ সবকিছু নিয়ে গেছে। তাদের কাছে বড় বড় চাপাতি, রামদা ছিল। আরেক ভুক্তভোগী রফিফুল ইসলাম সাঈদ বলেন, হঠাৎ করে পাঁচ থেকে ছয়জন এসে বড় বড় চাপাতি দেখিয়ে হাতে আঘাত করে পকেট থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী রিফাত ভূঁইয়া বলেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসায় যাওয়ার সময় রেললাইনে কিছু লোকের মধ্যে ধস্তাধস্তি দেখতে পাই। কয়েকজন আবার চিৎকারও করছিলেন। পরে বুঝতে পারি ডাকাতি হচ্ছে। এরপর আমিও চিৎকার করলে ডাকাতরা দ্রুত গাড়িতে উঠে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে একজন সাংবাদিক গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলে তাকেও চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারপর সাংবাদিকের সহযোগিতায় আমরা গাড়িটি আটক করি। কিন্তু ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
ডাকাতির কবলে পড়া অটোরিকশা চালক বলেন, পাঁচজন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পথে হঠাৎ প্রাইভেটকারের পাশে দাঁড়ানো থাকা চার থেকে পাঁচজন যুবক আমাদের গতিরোধ করে। তাদের হাতে রামদা ও চাপাতি ছিল। এ সময় এক মহিলা যাত্রীর গলার চেইন, মোবাইলসহ যার কাছে যা পেয়েছে, সব কিছু নিয়ে যায় তারা।
এলাকার বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ বলেন, আব্দুল্লাহপুর রেললাইনের এই জায়গাটিতে প্রতিনিয়ত ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটে। যার কারণে গভীর রাতে এ পথ দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে ডাকাতির ঘটনাস্থল নিয়ে উত্তরা দক্ষিণ থানার এএসআই সমিরন বলেন, রেললাইনের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এ পাশে কোনো কিছু হয়নি। একই কথা জানিয়ে ওই থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা ঘটেছে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায়।
অন্যদিকে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মো. মোর্শেদ আলম বলেন, উত্তরা সেক্টেরের মধ্যে আমাদের থানা এলাকা, রেললাইন লাইনের ওপার আমাদের থানা এলাকা না। তবে উত্তরা পূর্ব থানার এসআই মিলটন বলেন, গাড়ি ও গাড়িতে থাকা ছুরি-চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানার সীমানার বিষয়ে উত্তরা বিভাগের ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগকে কয়েকবার ফোন ও বার্তা দেওয়ার পরও তার কোনো সাড়া মেলেনি।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট