জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। ট্রাক ভাড়া বাড়ায় দুই দিনের ব্যবধানে এক প্রকার অসময়ে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজের দাম। পাশাপাশি অসহনীয় মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। সঙ্গে আদা, রসুন, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ ও মরিচের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে এসব পণ্য কিনতে ক্রেতার বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতার হাঁসফাঁস বাড়ছে।
খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি রসুন সর্বনিম্ন ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা একদিন আগেও ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সর্বনিম্ন ১৬০ টাকা কেজি আমদানি করা রসুন সোমবার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। আমদানি করা আদার দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১৫০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি দারুচিনি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে লবঙ্গ ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৬০০ টাকা, যা আগে চার হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা, যা একদিন আগে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পেঁয়াজ মাসের ব্যবধানে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
পাশাপাশি রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি বেগুন মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১২৫ টাকা, যা একদিন আগে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর সাত দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। একদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে পটোল ও ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৮৫-১০৫ টাকা, বরবটি, ঝিঙা, চিচিঙা, শিম, শজিনার দামও বেড়েছে। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। সঙ্গে প্রতিকেজি করলা ১২০-১৪০ টাকা দরে, যা একদিন আগে ১১৫-১৩৫ টাকা ছিল। পাশাপাশি প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৮০-১০০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।
কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. সোলাইমান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে অসময়ে বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজের দাম। সঙ্গে সব ধরনের সবজির দামও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিক্রেতারা তেলের সংকট দেখিয়ে ট্রাক ভাড়া বেশি বলে আগে থেকেই এসব পণ্য বেশি দামে বিক্রি করছে। আর তেলের দাম বাড়ানোর পর তারা সুযোগ বুঝে কেজিপ্রতি আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে।
এসব বিষয় তদারকি করতে বাজারে কোনো সংস্থাকে দেখা যাচ্ছে না। তিনি জানান, তেলের দাম বাড়লে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়বে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই অজুহাত দেখিয়ে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়তি না রাখতে পারে, সেজন্য কঠোর মনিটরিং করা দরকার।
ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ মনির বলেন, তেল সংকটের কারণে আগের তুলনায় ট্রাকপ্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করতে হয়েছে। কারণ একটি ট্রাকের তেল পেতে দুই থেকে চার দিন সময় লাগে। যেখানে বগুড়া থেকে একটি ট্রাক ঢাকায় আসতে ভাড়া ছিল ১২-১৪ হাজার টাকা। সেখানে এখন ১৮-২০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি এখন সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। সে কারণে ভাড়া কিছুটা বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের বাজারে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কথা বলে দাম বাড়ানোর কারণে সবগুলো নিত্যপণ্য ও সেবার ওপর দাম বাড়বে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু অস্বাভাবিক হচ্ছে ব্যবসায়ীরা সব সময় অজুহাত খোঁজে। এই ইস্যু কাজে লাগিয়ে তারা যে পরিমাণ পণ্যের দাম বাড়ার কথা তার তুলনায় বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে ক্রেতাসাধারণকে যাতে নাজেহাল করতে না পারে, সেজন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।