মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের সমাধান খুঁজতে চারটি প্রস্তাব দিয়েছে চীন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শান্তি ও স্থিতিশীলতা জন্য এই দাবিগুলো আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে উত্থাপন করেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুদেশের সরকার প্রধান বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে শি বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি মেনে চলা জরুরি। আন্তর্জাতিক আইনকে ‘সুবিধামতো ব্যবহার করে আবার প্রয়োজন না হলে বাদ দেওয়া’ এটা আর চলবে না।
চীনা গণমাধ্যম অনুযায়ী, শি জিনপিংয়ের চার দফা শান্তি পরিকল্পনা হলো—
বেইজিং বারবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে অবৈধ বলে সমালোচনা করলেও, শি এই সংঘাত নিয়ে খুব কমই প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন।
আবুধাবির যুবরাজের এই সফর এমন সময়ে হয়েছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। পাকিস্তানে বসা সবশেষ আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের যুদ্ধ শেষ করার কোনো সমঝোতা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে।
তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল পরিবহন বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচণ্ড ব্যহত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তা অনেক কমে গেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালিয়েছে ইরান। এতে ব্যপক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশগুলো।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে চীনের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অক্টোবর ২০২২ সালের পর সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের আমদানিও ২.৮ শতাংশ কমেছে। কারণ চীনা জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়েছে।
শি জিনপিং শেখ খালেদকে বলেন, আমরা যেন বিশ্বকে আবার জঙ্গল-আইনে ফিরে যেতে না দিই। চীন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। যাতে একটি আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও গতিশীল কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা যায়।
আমিরাতের সবচেয়ে বড় প্রদেশ আবুধাবির যুবরাজের এই সফর চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়। এটি ২০২৪ সালে তার বাবার চীন সফরের ধারাবাহিকতা। এদিকে, আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনে শি একটি বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।