অন্যদিকে, শহরশ্রী গ্রামের একটি বাড়ির আঙিনায়ও একই দৃশ্য। গাছটির গোড়া থেকে কাণ্ডজুড়ে ফুটে থাকা ফুলে আধিপত্যে পাতা প্রায় দেখাই যায় না। কুঁড়ি থেকে পূর্ণ প্রস্ফুটন- সব ধাপেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য।
স্থানীয় দর্শনার্থীদের বক্তব্য, এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি তারা। গাছের কাণ্ডজুড়ে ফুল ফোটার বিরল দৃশ্য তাদের বিস্মিত করেছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা এই গাছের সামনে ছবি তুলতে ভিড় করছে।
লেখক এহসান বিন মুজাহিরের ভাষায়, ‘নাগলিঙ্গম আমাদের দেশে একটি বিরল প্রজাতির গাছ। এই ফুল সচরাচর চোখে পড়ে না, ফলে বেশিরভাগ মানুষের কাছেই এটি অপরিচিত। বসন্তকালে যেমন শিমুল গাছের নিচে ঝরে পড়া ফুলে চারপাশ ভরে ওঠে, তেমনি নাগলিঙ্গম গাছের তলাও তার অসংখ্য পাপড়িতে নান্দনিক দৃশ্য সৃষ্টি করে।
নাগলিঙ্গম গাছ আকারে বেশ বড়। এর কাণ্ড ফুঁড়ে বের হওয়া লম্বা, লতার মতো শাখাগুলোতে একসঙ্গে ফুটে ওঠে হাজারো কুঁড়ি। পরে সেসব কুঁড়ি রূপ নেয় টকটকে লাল পলাশ কিংবা শিমুলের মতো দৃষ্টিনন্দন ফুলে, যা আকাশের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকে। ফুলের পাপড়ি ও রেণুর গঠন এতই আকর্ষণীয় যে তা সহজেই যে কারো দৃষ্টি কাড়ে।
স্থানীয়রা বলছে, শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে নাগলিঙ্গম গাছ যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। বিরল এই বৃক্ষ শুধু সৌন্দর্য নয়, বৈজ্ঞানিক ও ঔষধি গুরুত্বেও অনন্য। ফলে দিন দিন এটি হয়ে উঠছে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের নতুন আকর্ষণ। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড. ইসমাইল হোসেন বলেন, নাগলিঙ্গম বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় বিলুপ্তির পথে। এটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল বৃক্ষ, যা ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। চারা রোপণের ১২-১৪ বছর পর গাছে ফুল আসে। গাছের কাণ্ড ভেদ করে বের হওয়া মঞ্জুরিতে একসঙ্গে ১০-২০টি ফুল ফোটে। একদিকে নতুন ফুল ফুটতে থাকে, অন্যদিকে ঝরে পড়ে পুরনো ফুল।