শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন

চুক্তির কারণে পাকিস্তান কি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে?

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

সৌদি আরবে একটি আত্মঘাতী ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে পাকিস্তানকেও জড়িয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান কি সত্যিই যুদ্ধে অংশ নেবে? 

ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, দুই দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলাকে উভয়ের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের এক মন্তব্য থেকে। তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সৌদি আরবে হামলা না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।

গত মঙ্গলবার তিনি জানান, ইরান যদি সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসলামাবাদ চুক্তির বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে পারে।

বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করেন, পাকিস্তান এই মুহূর্তে সরাসরি ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম। বরং দেশটি রাজনৈতিকভাবে সৌদি আরবের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করতে পারে। তাছাড়া, এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল সতর্কবার্তা দিয়েছেন, সৌদি আরবের হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কোনো ঘোষণা দেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরাইল কাতারের রাজধানী দোহায় বিমান হামলা চালানোর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপরই রিয়াদ বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খোঁজার দিকে ঝুঁকতে থাকে।

এই চুক্তি নিয়ে আরেকটি বড় বিতর্ক রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এসএমডিএ চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তির (টিপিএনডব্লিউ) মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

পাকিস্তান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তারা সৌদি আরবকে পারমাণবিক সুরক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের কারণে প্রশ্ন উঠেছে—পাকিস্তান কি প্রথমবারের মতো কোনো পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন মিত্র রাষ্ট্রকে পারমাণবিক সুরক্ষার আওতায় এনেছে?

পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের পক্ষে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন আইক্যানের এক প্রতিবেদনে লন্ডনভিত্তিক থিংকট্যাংক চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এনপিটি কাঠামোর বাইরে ‘বর্ধিত প্রতিরোধ নীতি’র একটি নতুন নজির তৈরি করতে পারে। যদিও এতে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্রের উল্লেখ নেই।

গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর সই হওয়া এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং ‘যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ শক্তিশালী করা।’ চুক্তির সময় উভয় দেশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই চরম উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন পাকিস্তান।

ইরান ও পাকিস্তানের সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে জটিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করবে, নাকি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়বে-সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102