মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ ঘোষণা গাছে আম-জাম ধরলে পাঠাবেন: কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী ‘খেলাধুলার মাধ্যমে দেশপ্রেম ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে’ নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, নতুন শঙ্কায় মধ্যবিত্তরা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর থামিয়ে বিএনপি নেতার মুক্তি দাবি আগামী বৈশাখ থেকে প্রতিটি জেলায় গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব: পল্টনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উত্তরা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন নিরাপত্তা রক্ষায় রাজধানীতে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ২০ বছর বনাম ৫ বছরের বিরোধ ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধনে টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী

সিরিয়ায় সংখ্যালঘু নারীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটিতে শুরু হওয়া নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু আলাউইত সম্প্রদায়ের নারীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিবিসি অ্যারাবিক জানিয়েছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৮০ জন নারী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তার   মধ্যে ২৬টি অপহরণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী ‘সিরিয়ান ফেমিনিস্ট লবি’ (এসএফএল)।

নিখোঁজ ও অপহৃতদের প্রায় সবাই আলাউইত সম্প্রদায়ের সদস্য, যারা সিরিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।

ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীরা জানিয়েছেন, তাদের কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অপহরণ ও যৌন দাসত্ব বা ‘সাবায়া’ হিসেবে ব্যবহারের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

রামিয়া (ছদ্মনাম) নামের এক কিশোরী জানান, তাকে তার গ্রাম থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড রুমে আটকে রাখা হয় এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে তার ছবি তোলা হয়। অন্য এক ভুক্তভোগী নেসমা জানান, তাকে সাত দিন আটকে রেখে বারবার ধর্ষণ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপহরণকারীরা তাকে বলেছিল ‘আলাউইত নারীদের সৃষ্টিই করা হয়েছে দাসী হিসেবে ব্যবহারের জন্য’।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল আলাউইত বেসামরিক নাগরিক। সুন্নি ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে এই নারীরা অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা যখন অভিযোগ জানাতে গেছেন, তখন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাদের উপহাস করেছেন কিংবা মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

যদিও সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪২টি অপহরণের অভিযোগ তদন্ত করে দাবি করেছে, এর মধ্যে মাত্র একটি ‘প্রকৃত অপহরণ’ ছিল এবং বাকিগুলো পারিবারিক বিরোধ বা স্বেচ্ছায় পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা। তবে এক নিরাপত্তা সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছে যে কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে এসব অপহরণে জড়িত ছিল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং এসএফএল-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বর্তমানেও অন্তত ১৬ জন আলাউইত নারী নিখোঁজ রয়েছেন এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102