২৬শে জানুয়ারী পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হয়। ভাড়া করা বাসার ভেতরে জিতেন্দ্রের মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনও চিহ্ন সেই বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক ছিল না।
কিন্তু জিতেন্দ্রের ভাই অজয় কুমার একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জ্যোতি এবং আরো তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করে এবং ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়।
এতে জানা যায়, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে, পুলিশ অভিযোগগুলোকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা থেকে হত্যায় পরিবর্তন করা হয় এবং তদন্ত জোরদার করা হয়। জ্যোতির ভাই দীপককেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ জানিয়েছে, জ্যোতি অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এবং স্বামীর মৃত্যুর আগের ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
তদন্তকারীদের তিনি জানান, তিনি ও জিতেন্দ্র ছাত্রজীবন থেকেই একে অপরকে চিনতেন। জিতেন্দ্র বরেলিতে অবস্থিত দেশটির শীর্ষস্থানীয় সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইভিআরআই)–এ একজন ঠিকাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে, পুলিশ জানায়, জ্যোতি উত্তরপ্রদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন।
তার জবানবন্দি অনুযায়ী, আর্থিক বিষয় নিয়ে ঘন ঘন বিরোধের কারণে বিয়ের পরের কয়েক সপ্তাহেই দম্পতির সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততা বেড়ে যায়। ঘটনার দিন সেই তর্ক চরমে পৌঁছায় বলে তিনি দাবি করেন, যার একপর্যায়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের ফোন করতে বাধ্য হন।
পুলিশ জানায়, এরপরের ঝগড়ার সময় জ্যোতির বাবা-মা ও ভাই জিতেন্দ্রকে চেপে ধরে রাখেন এবং তিনি নিজে ‘ক্রোধের বশে’ তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মৃত্যুর পর পুরো পরিবার মিলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।