বাংলাদেশের দাবি রাখেনি আইসিসি। দলটিকে বাদ দিয়ে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সংস্থা। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানায় তারা।
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশ চেয়েছিল তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে। তবে আইসিসি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের পর কড়া সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আফ্রিদি লেখেন, ‘বাংলাদেশে এবং আইসিসি ইভেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আজকের আইসিসির অবস্থানে আমি খুব হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার ক্ষেত্রে তারা ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ মেনেছে। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই বোঝাপড়া দেখাচ্ছে না।’
গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। তখন আইসিসি ভারতের দাবি মেনে নেয়। ভারতের সব ম্যাচ আয়োজন করা হয় দুবাইয়ে। অন্য দলগুলো পাকিস্তানে খেললেও ভারতের বিপক্ষে খেলতে তাদের দুবাই যেতে হয়।
এই প্রসঙ্গে আফ্রিদি আরও বলেন, ‘একই নীতি এখানে মানা হয়নি। ধারাবাহিকতা আর ন্যায্যতা বিশ্ব ক্রিকেট পরিচালনার মূল ভিত্তি। বাংলাদেশের খেলোয়াড় আর কোটি ভক্ত সম্মানের যোগ্য। দ্বৈত মানদণ্ড নয়। আইসিসির উচিত সেতু গড়া, আগুন লাগানো নয়।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিও একই কথা বলেন। শনিবার লাহোরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আইসিসির বোর্ড সভাতেও একই কথা বলেছি। এক দেশের জন্য এক নিয়ম আর অন্য দেশের জন্য উল্টো নিয়ম হতে পারে না।’
আইসিসি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি। সে কারণেই ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন নাকচ করা হয়েছে।
আইসিসি আরও জানায়, টুর্নামেন্ট শুরু হতে খুব কম সময় বাকি থাকায় সূচি বদলানো বাস্তবসম্মত ছিল না। তাই কঠিন হলেও এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি।