গাজা সিটি দখলের জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে দেশটির নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। একইসঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে পাঁচ দফা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে— হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, জীবিত ও মৃত জিম্মি ফেরত, গাজা উপত্যকার নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এবং হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নয় এমন বিকল্প বেসামরিক সরকার গঠন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আইডিএফ গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেবে, যেখানে লাখো ফিলিস্তিনি বাস করছেন। তবে পরিকল্পনাটি ইসরায়েলের ভেতরে-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করেছেন, পূর্ণ দখল জিম্মিদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং এটি সেনাদের জন্য “ফাঁদে পা দেওয়ার” সমান। জিম্মিদের পরিবারও আলোচনার মাধ্যমে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া গাজা দখল না করার আহ্বান জানিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করছে, ইতোমধ্যেই গাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে। সম্ভাব্য এই নতুন অভিযান কয়েক মাস স্থায়ী হয়ে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
সমালোচকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং রাজনৈতিকভাবে তার জোট টিকিয়ে রাখার কৌশলের অংশ হতে পারে।