জাপানের সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশের জনসংখ্যা ৯০৮,৫৭৪ জন কমে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৬৮ সালের পর থেকে বার্ষিক সর্বোচ্চ হ্রাস। গত বছরে মাত্র ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬১ জন শিশু জন্ম নিয়েছে, যা ১৮৯৯ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন, আর মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। এ হিসেবে টানা ১৬ বছর ধরে জন্মের তুলনায় মৃত্যুর হার বাড়ছে, যা দেশটিকে গভীর জনসংখ্যা সংকটে ফেলে দিয়েছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পরিবার-বান্ধব নীতি ও বিনামূল্যে শিশুর যত্নের প্রতিশ্রুতি দিলেও, জন্মহার বাড়ানো এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যা এখন প্রায় ৩০ শতাংশ, যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। একই সাথে কর্মক্ষম বয়সী জনগণ কমে প্রায় ৬০ শতাংশ, আর চল্লিশ লক্ষ বাড়ি পরিত্যক্ত হয়েছে।
বৃদ্ধি প্রত্যাশিত ফল দিতে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, তবে বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে জাপানের পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর চাপ আরও বাড়বে। বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা বেড়েছে, তবে তারা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশ।
জাপান তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে টিকিয়ে রাখতে এবং জনসংখ্যা সংকট মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথে এগোচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে বয়স্ক জনগণ বৃদ্ধির সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ নজর রাখার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।