শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৩ বার পঠিত

বিএনপির সমাবেশের আগে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বাস ধর্মঘটের কারণে গত দুই দিন শুধু দূরের গন্তব্যের যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহালেও শুক্রবার দুপুর থেকে সিএনজি অটোরিকশা ও থ্রিহুইলার ধর্মঘট শুরু হওয়ায় কাছের যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

আজ শুক্রবার সকালে ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে রাজশাহী নগরীর শিরোইল এলাকায় ঢাকা বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি কর্মকর্তা সোহেল চৌধুরী।

তিনি ঢাকা যেতে চান। কিন্তু দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারগুলো সব বন্ধ। স্ট্যান্ডে কোনো বাসও নেই। সোহেল জানান, পরিবহন ধর্মঘটের ভেতর তিনি ট্রাকের সামনে বসে রাজশাহী এসেছেন। ঢাকা যাবেন কিভাবে তা জানেন না।

তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে। রাজশাহীর বেসরকারি আমানা হাসপাতালের একটি যন্ত্রের সমস্যার কারণে জরুরিভাবে ডাকা হয়। রাতেই তিনি ট্রাকে চড়ে আসেন। কাজ শেষ করে এবার তিনি ফেরার উপায় পাচ্ছেন না।

নগরীর সাগরপাড়া এলাকায় মাইক্রো স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, এখানে ৭-৮ জন যাত্রী একত্রিত হয়ে গাড়ি ভাড়া করে উদ্দেশে রওয়ানা দিচ্ছেন। তারা রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাবেন। আমিনুল হক নামের এক ব্যক্তি জানালেন, সাধারণ বাস বন্ধ থাকলেও তিনি ভেবেছিলেন বিআরটিসি চলবে। তাই বিআরটিসি কাউন্টারে যান। কিন্তু বিআরটিসি বাসও বন্ধ। বাধ্য হয়ে কয়েকজনের সাথে মাইক্রোবাস ভাড়া করছেন তিনি। জনভোগান্তি করতে বিআরটিসি বাস কেন বন্ধ রয়েছে সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিআরটিসির কাউন্টারের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্মঘটের সময় গাড়ির তো কোনো নিরাপত্তা নেই। আমাদের গাড়িও যদি রাস্তায় এখন ভাঙচুর করে, তাহলে দায় নেবে কে? সরকারি সম্পদ তো নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। সে জন্যই গাড়ি আপাতত বন্ধ রয়েছে। ‘

আগামী শনিবার বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ। বুধবার থেকে চলছে বাস ধর্মঘট। আজ শুক্রবার দুপুর থেকে শুরু হয়েছে সিএনজি অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার ধর্মঘটও। দুপুরে বাগমারার ভবানীগঞ্জের সালাম শেখ তার বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন নগরীর রেলগেট এলাকায়। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য তারা শহরে এসেছিলেন। রেলগেট সিএনজি স্টেশনে এসে দেখেন গাড়ি নেই। দু’একটা থাকলেও ধর্মঘটের কারণ দেখিয়ে তারা যেতে চাচ্ছে না। এখন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দেখে কেটে কেটে তাদের বাড়ি যেতে হবে।

রাজশাহী জেলা মিশুক-সিএনজি মালিক সমিতির সহসভাপতি আহসান হাবিব জানান, দুই দাবিতে তারা ধর্মঘট শুরু করেছেন। দাবি দুটি হলো- সড়কে চলাচলের বাস মালিকদের বাধা দেওয়া বন্ধ করা এবং বিআরটিএ’র হয়রানি বন্ধ করা। আর বাস মালিকেরা মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ করাসহ ১১টি দাবির কথা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩
themesba-lates1749691102