মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
মদন পৌরবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন রফিকুল ইসলাম আকন্দ ঈদের সার্বিক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক তদারকিতে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্গাপুরে কোরবানির হাটে ক্রেতা সংকট, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা ডেপুটি স্পীকারের উদ্দ্যেগ : বন্যহাতির আক্রমণরোধে প্রকল্প গ্রহণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সেই সংগীতশিল্পী পরিবারকে অর্থ সহায়তা দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আজ হজের প্রথমদিন, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত মিনার প্রান্তর, তাঁবুতে হাজীদের খোঁজ নিচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী কৃষকের টেকসই উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী ঈদে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত বাহনের চাপায় বাবা-মেয়ে নিহত তালাকের পর সাবেক স্ত্রীকে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’, যুুবক গ্রেফতার কথা কাটাকাটির জেরে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

সিজারিয়ান ডেলিভারি: অতি মুনাফা লুটছে হাসপাতালগুলো

ন্যাশনাল ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সংগৃহীত ছবি | উত্তরা নিউজ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নামিদামি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সিজারিয়ান ডেলিভারির হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরে ৮০ শতাংশ এবং গ্রামে ৬৫ শতাংশ প্রসূতি সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বোচ্চ ১০–১৫ শতাংশ সুপারিশের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

ঢাকার হাসপাতালগুলোতে সিজারের খরচ ধরা হচ্ছে ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ওষুধ, কেবিন ও অন্যান্য সুবিধা আলাদাভাবে রোগীকে বহন করতে হয়। প্রথমে গর্ভবতী মাকে নিয়মিত চেকআপে আশ্বস্ত করা হলেও, ডেলিভারির সময় বিভিন্ন “ঝুঁকি” দেখিয়ে পরিবারগুলোকে দ্রুত সিজারে সম্মত করানো হয়। বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করছেন, অনেক ক্ষেত্রে এসব জটিলতা চিকিৎসাগতভাবে যৌক্তিক নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে গর্ভবতী নারীর ওপর ভীতি তৈরি করা হয়।

বেসরকারি হাসপাতালগুলো এই সুযোগকে আর্থিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে। সিজার স্বাভাবিক ডেলিভারির তুলনায় প্রায় চারগুণ ব্যয়বহুল হওয়ায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকরা লাভবান হচ্ছেন, কিন্তু নারীদের শরীর ও ভবিষ্যৎ মাতৃত্ব দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অপারেশনের কারণে সেলাই ফেটে যাওয়া, সংক্রমণ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, হাড় ও স্নায়ুর সমস্যা এবং পরবর্তী গর্ভধারণে নরমাল ডেলিভারির সুযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়।

ডা. ফারহানা আক্তার মিমি ও ডা. মিফতা মালিহা বলেছেন, বর্তমানে অনেক নারী স্বেচ্ছায় সিজার বেছে নিচ্ছেন, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক। তবে অনেক সময় চিকিৎসক ও হাসপাতালের আর্থিক প্রলোভন এবং রোগীর ভয় ব্যবহার করে অপ্রয়োজনীয় সিজার করানো হচ্ছে।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে প্রতি পাঁচটি শিশুর মধ্যে দুইটির জন্ম হয়েছে সিজারের মাধ্যমে। বেসরকারি হাসপাতালে এই হার ৮৪–৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মাতৃত্ব এক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হবে, যেখানে নারীর স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ ঝুঁকির মুখে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102