রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই সরাসরি মস্কো সফর করে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার হাতে মোজতবার সেই বার্তা পৌঁছে দেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই সাক্ষাতের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হলেও, মোজতবা খামেনি ঠিক কী বার্তা পাঠিয়েছেন বা সেখানে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও বেশ পুরোনো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এই সম্পর্কে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন সংকট নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক বা ভারসাম্যপূর্ণ রাখার চেষ্টা করছে মস্কো। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটে ইরানকে কূটনৈতিকভাবে নিয়মিত সমর্থন দিয়ে আসছে রুশ প্রশাসন।
এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধ কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থানের পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছে দেশটি।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে দখলদার ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এই সামরিক অভিযানটি স্বল্পকালীন হলেও এর তীব্রতা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশটির সামরিক বাহিনী এই হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে অভিযানটি ঠিক কতটুকু সময় দীর্ঘ হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কিছু জানানো হয়নি।
সম্ভাব্য এই হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যেই ১২টি যুদ্ধজাহাজে হাজার হাজার নৌ ও বিমান সেনাকে সর্বাত্মক প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে, যারা বর্তমানে কেবল ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর এই যৌথ হামলায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং সামরিক ড্রোন ও মিসাইল ঘাটিগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে টার্গেট করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।