আধুনিক নগরজীবনে জায়গার সংকটের কারণে বড় গাছের পাশাপাশি টবের ছোট ও আকর্ষণীয় গাছের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ তালিকায় ডেক্সপ্লান্ট হতে পারে সৌন্দর্যপ্রেমীদের জন্য একটি চমৎকার পছন্দ।
ডেক্সপ্লান্টের লম্বা, সরু ও আকর্ষণীয় পাতার গঠন ঘর, বারান্দা, ছাদবাগান, অফিস কিংবা নার্সারির সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। টবে সহজে রাখা যায় বলে সীমিত জায়গার মানুষও এ ধরনের গাছ দিয়ে সবুজের আবহ তৈরি করতে পারেন।
পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ
ডেক্সপ্লান্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ। অতিরিক্ত পানি না দিয়ে মাটির উপরের অংশ কিছুটা শুকিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দিতে হয়। পানি জমে থাকলে শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই টবের নিচে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
গাছটি পর্যাপ্ত আলো পেলে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। তবে তীব্র রোদে দীর্ঘসময় রাখার পরিবর্তে উজ্জ্বল আলো বা আংশিক ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা অনেক ক্ষেত্রে উপযোগী। টবের মাটি ঝুরঝুরে ও পানি নিষ্কাশনযোগ্য হলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।
ঘর ও অফিস সাজাতে জনপ্রিয়
বর্তমানে বাসাবাড়ির বারান্দা, ছাদবাগান, অফিস, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় সবুজ গাছ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। ডেক্সপ্লান্টের আকর্ষণীয় পাতার গঠন এ ধরনের সাজসজ্জায় আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে।
ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও রয়েছে
শহরাঞ্চলে টবের গাছ ও ইনডোর প্ল্যান্টের চাহিদা বাড়ায় নার্সারি ব্যবসায়ীদের জন্যও এ ধরনের উদ্ভিদ সম্ভাবনাময়। ছোট পরিসরে উৎপাদন, টবজাতকরণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাজারজাত করা সম্ভব। বিভিন্ন আকার ও বয়সের গাছ তৈরি করে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করা যায়।
তবে ডেক্সপ্লান্টের সঠিক জাত, বৈজ্ঞানিক নাম, উৎপাদন পদ্ধতি এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নার্সারি বা উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবুজ হোক নগরজীবন
নগরায়নের ফলে মানুষের বসবাসের জায়গা কমলেও প্রকৃতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমেনি। বরং অল্প জায়গায় বেশি সবুজ তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। টবের ডেক্সপ্লান্টসহ বিভিন্ন শোভাবর্ধক উদ্ভিদ সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।