সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

ট্রাম্পের দাবি ইরান ‘ধসে’ যাচ্ছে, নজর রাখছে চীন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান বা ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরান ইতোমধ্যে ধসে পড়ছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় অক্ষরে ট্রাম্প লিখেন, ‘ইরান পুরোপুরি ধসে পড়ছে!’

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে (এফটি) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের একটি কলাম প্রকাশ হয়। এতে বেসেন্ট লিখেছেন, সোমবার থেকে তেহরানের বিরুদ্ধে ইকোনমিক ডি-ডে শুরু হবে।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) বেসেন্ট সংবাদ সম্মেলন করবেন। তখন তিনি কঠোর পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

এই পদক্ষেপগুলো নজিরবিহীন হতে যাচ্ছে বলে আগেই সতর্ক করেছিল ওয়াশিংটন। এ কারণে বিষয়টিকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অভিযান বা যুদ্ধ বলা হচ্ছে। এফটিতে বেসেন্ট লিখেছেন, ইরানকে তুষ্ট করার জন্য যারা দেশটির সঙ্গে লেনদেন করে সেসব ‘ভীতু দেশগুলোকে’ও লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন প্রথমবারের মতো সম্ভাব্য আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়। তখন থেকে চীনের নামও আলোচনায় আসছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসিকে সাক্ষাৎকার দেন স্কট বেসেন্ট। তখন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযানে সহযোগিতা করতে বেইজিংকে আহ্বান জানান। জবাবে চীন তখন বলেছিল, নিষেধাজ্ঞা কোনো সমাধান বয়ে আনবে না।

নজর রাখছে চীন
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে একই কথা বলেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান। গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা দিলে বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? লিন জিয়ান বলেন, বেইজিং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর ওপর গভীর নজর রাখছে। একইসঙ্গে বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। লিন জিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল কোনো সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে না। এগুলো উত্তেজনা বাড়ায়। এতে কারও স্বার্থ রক্ষা হয় না।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বেইজিংয়ে জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান। বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান দিতে হবে।

বৈঠক শি আরও বলেন, চীন সবসময় একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তারা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি চায়।

ইরানের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তেহরানও কঠোর অবস্থান জানিয়েছে। তারা এটিকে ওয়াশিংটনের সামরিক পরাজয় হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে নতুন পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করার ব্যাপারে বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করেছে।

সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান মোহসেন রেজাই রোববার বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হবে না।

রপ্তানি বন্ধের পথ হিসেবে মোহসেন রেজাই হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের কথা উল্লেখ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধে অংশ নেওয়া দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102