সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

বৃষ্টিতে বিপর্যয়ে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে নাকাল হচ্ছেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা দোকানই খুলতে পারছেন না। কোনো কোনো মার্কেটে পানি ঢুকে দোকানের মালপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। খুব প্রয়োজন না থাকলে কেউ কেনাকাটা করছেন না। শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য জেলার চিত্রও অনেকটা একই রকম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এভাবে তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা নিরসন ও ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা।

রাজধানীর অন্যতম পাইকারি মার্কেট কারওয়ান বাজার। গতকাল রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, বৃষ্টিতে কারওয়ান বাজারের আশপাশের সড়কে পানি। ফুটপাতের সবজি ব্যবসায়ীদের অনেকেই দোকান বসাতে পারেননি। কেউ কেউ দোকান বসালেও ক্রেতা সংকটে বেচাকেনায় মন্দা। পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী আজাদ হোসেন সমকালকে বলেন, শনিবার থেকে টানা বৃষ্টির কারণে তাঁর কয়েক হাজার টাকার সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।

ফুটপাতের ফল ব্যবসায়ী মো. মামুন বলেন, প্রত্যেক বছর একই অবস্থা হয়। বৃষ্টি হলেই মার্কেট ডুবে যায়। পানি নিষ্কাশনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নাই। দুপুরের পর দোকান খুললেও ক্রেতা থাকে না বললেই চলে।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর নিউমার্কেট গতকাল খোলেনি। মার্কেটের বেশির ভাগ দোকানের ভেতর পানি। মার্কেটের ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, দোকানের সামনে কোমরসমান পানি। অনেক দোকানে পানি ঢুকেছে। মানুষ মার্কেটে আসতে পারছেন না। এভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে চরম লোকসানে পড়তে হবে।

ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটের উত্তর ডি ব্লকের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সমকালকে বলেন, মূল নিউমার্কেট, বনলতা কাঁচাবাজার, নিউ সুপার মার্কেট দক্ষিণ, হকার্স মার্কেটসহ বেশির ভাগ বিপণিবিতান পানিতে ডুবে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের অনেক মালপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকেই বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি জানিয়েছে, গত তিন-চার দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই সময় সারাদেশে ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকারে পণ্য বিক্রি হতো। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ৪৫ শতাংশ বিক্রি কম হয়েছে। এতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সমিতির হিসাব বলছে, তিন-চার দিনের বিক্রির ওপর গড় মুনাফা ১০ শতাংশ ধরা হলে ১৮ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে মুনাফা হওয়ার কথা অন্তত এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা। কিন্তু বিক্রি ৪৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের ৭০০ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা কম হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানিতে অনেক দোকানের মালপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় শত কোটি টাকা।

সমিতির মহাসচিব জহিরুল হক ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, টানা বৃষ্টিতে সারাদেশে ফুটপাত থেকে শুরু করে স্বর্ণের দোকান পর্যন্ত সব ধরনের পণ্যের বিক্রিতে ধস নেমেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ঢাকা চেম্বার বা এফবিসিসিআইর মতো বড় বড় ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বসলেও প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছেন। দেশে ছোট-মাঝারি পর্যায়ে প্রায় এক কোটি ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারা দুর্দশার কথা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102