মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
নিকুঞ্জে ইয়াবাসহ ফের গ্রেপ্তার ‘মোফা বাবু নেপথ্যে থানা বিএনপির শীর্ষ নেতার আশকারা খুলনার পাইকগাছায় পরকীয়া ও যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর, শিশু কন্যাসহ বাড়ি ছাড়া মিশরের মুখোমুখি হওয়ার আগে দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা এনসিপির জুলাই পদযাত্রার লক্ষ্য স্থানীয় নির্বাচন স্ত্রীকে হ ত্যা করে মাটি চাপা, ১৯ দিন পর লা*শ উদ্ধার একসঙ্গে পরীক্ষা শেষ, একসঙ্গে মৃত্যু / জাফলংয়ে ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে ৩ বন্ধু নিহত উগ্রবাদী সংগঠনের’ সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৬ জন গ্রেপ্তার খামেনির দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ এই মুহূর্তে মন ভালো নেই, খুবই দুঃখ লাগছে: সাফা কবির রামগড়ে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

নিকুঞ্জে ইয়াবাসহ ফের গ্রেপ্তার ‘মোফা বাবু নেপথ্যে থানা বিএনপির শীর্ষ নেতার আশকারা

উত্তরা নিউজ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

সোমবার রাত আটটার দিকে নিকুঞ্জ-২ এলাকার ‘ঢাকা স্পাইস’ রেস্তোরাঁর সামনে মাদক বিক্রির সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়

 

রাজধানীর খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসা এবং চাঁদাবাজির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ইসমাইল হোসেন বাবু ওরফে মোফা বাবুকে এবার বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার রাত আটটার দিকে নিকুঞ্জ-২ এলাকার ‘ঢাকা স্পাইস’ রেস্তোরাঁর সামনে মাদক বিক্রির সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির একটি বিশেষ দল এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে।

খিলক্ষেত থানার ৯৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব পদের এই কথিত নেতার বিরুদ্ধে অপরাধের খতিয়ান দীর্ঘ হলেও প্রতিবারই সে আইনের ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে জড়ায়।

​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মোফা বাবুর এই লাগামহীন বেপরোয়া আচরণের মূল খুঁটির জোর নিকুঞ্জে বসবাসরত খিলক্ষেত থানা বিএনপির এক প্রভাবশালী যুগ্ম আহ্বায়ক। নিকুঞ্জ এলাকার সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী—প্রত্যেকই এই ‘ওপেন সিক্রেট’ বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। ওই এলাকায় বসবাসরত শীর্ষ নেতার সরাসরি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে মোফা বাবু নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবার ধৃষ্টতা দেখাত। এই গডফাদারের প্রত্যক্ষ আশকারাতেই সে এলাকায় একচ্ছত্র অপরাধের সাম্রাজ্য কায়েম করেছে।

এর আগেও সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার হাতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কমপক্ষে হাফ ডজনবার গ্রেপ্তার হয়েছিল সে। কিন্তু প্রতিবারই নিকুঞ্জে বসবাসরত ওই বিএনপি নেতার শক্তিশালী রাজনৈতিক তদবির ও লেজুড়বৃত্তির জোরে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহে অপরাধ জগতে লিপ্ত হয় এই মোফা বাবু।

​এলাকাবাসীর ক্ষোভ, মোফা গ্রেপ্তার হওয়ার পর সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও সে জামিনে বের হয়েই আরও হিংস্র ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গডফাদারের অভয়শরণে পুনরায় শুরু করে মাদক ব্যবসা ও ফুটপাত-দোকানপাট থেকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চাঁদা আদায়। তার এই লাগামহীন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদক সিন্ডিকেটের কারণে পুরো নিকুঞ্জ এলাকার সামাজিক পরিবেশ সম্পূর্ণ বিষাক্ত ও বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বারবার অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি এই কথিত নেতাকে এলাকায় এক প্রকার ‘অস্পৃশ্য’ করে তুলেছে। যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে সে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছে, অথচ প্রশাসন সব জেনেও যেন এক অদৃশ্য কারণে তার ওই প্রভাবশালী খুঁটির জোরের কাছে একপ্রকার অসহায় ভূমিকা পালন করছিল।

​সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত গুরুতর অভিযোগে অন্তত ছয়বার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও দল তার বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি। তাকে দল থেকে বহিষ্কার তো দূরের কথা, সাধারণ একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ বা তিরস্কার পর্যন্ত করার সাহস দেখায়নি স্থানীয় নেতৃত্ব। মূলত নিকুঞ্জে বসবাসরত খিলক্ষেত থানা বিএনপির ওই যুগ্ম আহ্বায়কের অনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অপরাধী পোষার নীতির কারণেই বাবুর মতো চিহ্নিত অপরাধীর বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দলের ত্যাগী ও আদর্শবান নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

​দলীয় প্রধান তারেক রহমান যেখানে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদক ব্যবসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে ‘ক্লিন ইমেজ’ মিশন নিয়ে এগোচ্ছেন, সেখানে মোফা বাবুর মতো চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিকে পদ দিয়ে রাখা এবং থানা কমিটির শীর্ষ নেতার তাকে ব্যাকপ্যাকিং করা দলের মূল নীতিকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মনে দলের নীতি ও আদর্শ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের পাশাপাশি জনমনে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

​সচেতন মহল ও তৃণমূলের রাজনীতিবিদেরা মনে করছেন, রাজনীতিকে জনগণের কল্যাণে ব্রতী করতে হলে অনতিবিলম্বে এই ধরনের গডফাদার ও সুযোগসন্ধানী সমাজবিরোধী উপাদানের কবল থেকে দলকে মুক্ত করতে হবে। একই সাথে, আইনের ফাঁকফোকর গলে এই কুখ্যাত অপরাধী এবং তার পেছনে থাকা নেপথ্য মদদদাতারা যেন আর পার পেয়ে সমাজের শান্তি বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর, আপসহীন ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, এই এক মোফা বাবুর অপরাধের দায় পুরো দল এবং এলাকার সাধারণ মানুষকে বয়ে বেড়াতে হবে

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102