দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ভয়াবহ মানবিক ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।
৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই দুই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৭০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এটি ভেনিজুয়েলার ইতিহাসে গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে দেশটিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান ও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম।
ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের এবং জ্যামন ভ্যান ডেন হোক স্যাটেলাইট রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রাথমিক অনুমান প্রকাশ করেছেন। তারা ২৫ জুন সংগৃহীত উচ্চ-রেজোলিউশনের সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করেন, যা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা পরিচালনা করে।
তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে গবেষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি এখনও প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হয়নি। তাই এই তথ্যকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়, বরং একটি সম্ভাব্য ধারণা হিসেবে দেখা উচিত।
ভূমিকম্পের পর ভেনিজুয়েলার জাতীয় সংসদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অন্তত ১৮৯টি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।
অন্যদিকে নাসা জানিয়েছে, তাদের স্যাটেলাইটগুলো শুধু ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও তথ্যই সংগ্রহ করছে না, বরং উদ্ধারকারী দলগুলোকে পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তা চিহ্নিত করা সহজ হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন বড় মাত্রার ভূমিকম্পে শুধু প্রাণহানি নয়, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতিও ব্যাপক হবে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নিতে পারে।
বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সহায়তাও ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে ভেনিজুয়েলার এই ভূমিকম্প এখন একটি বড় মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে মৃতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ—সবকিছুই সামনে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।