সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামি তাহেরের মৃত্যুদণ্ড হানজালারা হায়েনা হয়ে উঠলে, থামানোর ওষুধও আমরা জানি : রাশেদ খান শুটিংয়ে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ তারকা মাদক চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তে কড়া নজর যোগব্যায়াম ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য নিদর্শন – ভূমিমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি ও সদস্যগণের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি’র সঙ্গে সৌজন‌্য সাক্ষাৎ। ফুটবলাররা যুক্তরাষ্ট্রে মর্যাদা রক্ষায় লড়াই করছে: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসপাতালে রোগীর কাছে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতে গিয়ে আটক স্বামী-স্ত্রী, পালালেন রোগী মসজিদে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, ইমাম কারাগারে ঘরে ডেকে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

কলম্বিয়ার নির্বাচনে জয়ের পথে ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

কলম্বিয়ার নির্বাচনে জয়ের পথে ট্রাম্প-সমর্থিত আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। প্রাথমিক ভোট গণনায় দেখা গেছে, ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্ডো দে লা এস্পিয়েলা অল্প ব্যবধানে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে আছেন।

তার জয় হলে দেশের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত ও সহিংসতা মোকাবেলার নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত দে লা এসপ্রিয়েল্লা অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠী, মাদক পাচার ও অপরাধ দমনে সামরিক অভিযান জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বামপন্থী প্রার্থী ইভান স্যাপেদাকে পরাজিত করার পথে রয়েছেন। দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আজ আমাদের দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

এটি এমন একটি অধ্যায়, যা নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও সুযোগে ভরপুর একটি কলম্বিয়া গড়ার স্বপ্নে বিশ্বাসী লাখো মানুষের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্মিত।’ 

রানঅফ নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৯৯ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দে লা এসপ্রিয়েলা পেয়েছেন প্রায় ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট আর সেপেদা পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে সেপেদা এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক ফলাফল ‘এখনও আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত নয়’।

তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে, আমরা সেটিকেই স্বীকৃতি দেব।’ 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সাধারণত প্রাথমিক ফলাফলের তুলনায় খুব সামান্য পরিবর্তন দেখা যায়।

ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়ে ওঠা দে লা এসপ্রিয়েলা ওই এলাকায় ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। প্রাথমিক ভোট গণনার ফল প্রকাশের পর তিনি উপকূলীয় শহর বারানকিলায় হাজারো সমর্থকের সমাবেশে ভাষণ দেন। নিজেকে ‘এল তিগ্রে’ (বাঘ) নামে পরিচয় দেওয়া দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আজ রাতটি জাতির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি সবার প্রেসিডেন্ট হব, যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা অন্য প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। সবার জন্যই আমি কাজ করব।’ দে লা এসপ্রিয়েলা দেশের ১৯৯১ সালের সংবিধান রক্ষা ও তা মেনে চলার অঙ্গীকারও করেন।

দে লা এসপ্রিয়েলার জয়ের খবর আসার পর তার সমর্থকেরা হলুদ রঙের কলম্বিয়া ফুটবল দলের জার্সি পরে এবং জাতীয় পতাকা হাতে উৎসব করেন। তারা গান গেয়েছেন, নেচেছেন এবং আতশবাজি ফুটিয়েছেন। এ সময় তারা ‘স্বদেশের জন্য দৃঢ় থাকো’ ও ‘পেত্রো, বিদায়!’ স্লোগান দেন। অনেক সমর্থক ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের মতো টুপি পরেছিলেন, যাতে লেখা ছিল, ‘কলম্বিয়াকে আবার মহান করে তোলো!’ ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘তিনি বিশাল ব্যবধানে জিতেছেন।’

দে লা এসপ্রিয়েলার জয়ের খবরে তার সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।  অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইভানের  সমর্থকেরাও বারানকুইলার রাস্তায় জড়ো হন। তারা অল্প ব্যবধানের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে, যদি কোনো পক্ষ ফলাফল মেনে না নেয়, তাহলে দেশে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

রবিবার গভীর রাতে কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। দে লা এসপ্রিয়েলার জয়ে ক্ষুব্ধ বিশাল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকা পোড়ায় এবং পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা একজন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে আসার আগে তার কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল না। আইনজীবী হিসেবে তিনি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব এবং কলম্বিয়ার আলোচিত প্রতারক ডেভিড মুরসিয়া গুজমানের পক্ষে কাজ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, এটি তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ ছিল। নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে তার সঙ্গে নায়িব বুকেলের তুলনা করা হয়।

নির্বাচনী সমাবেশ ও সামাজিক মাধ্যমে তিনি এবং তার সমর্থকেরা প্রায়ই কলম্বিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরেন। সমাবেশে তারা সামরিক কায়দায় সালামও দেন। নিরাপত্তার কারণে দে লা এসপ্রিয়েলা প্রায়ই বুলেটপ্রুফ কাচের আড়াল থেকে বক্তব্য দেন।

কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত কয়েক দশক ধরে চললেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বিদ্রোহী ও অপরাধী গোষ্ঠী, যেমন ফার্কের ভিন্নমতাবলম্বী সদস্যরা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) এবং ক্ল্যান ডেল গলফোর সদস্যসংখ্যা গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

কোকেন পাচারের লাভজনক রুট ও অবৈধ খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সহিংসতা বেড়েছে। গত বছর কলম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা সীমান্তে সংঘাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোকেন উৎপাদক দেশ কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদনও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সমালোচকদের মতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর ‘টোটাল পিস’ বা শান্তি আলোচনা-কেন্দ্রিক নীতি সফল হয়নি। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির সুযোগে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরো শক্তিশালী হয়েছে এবং নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে।

এ অবস্থায় আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনার বদলে কঠোর সামরিক অভিযান চালিয়ে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে। এ ছাড়া তিনি কলম্বিয়ার জঙ্গলে বড় আকারের কারাগার নির্মাণ, সরকারি ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার আনারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছিলেন দে লা এসপ্রিয়েলা

আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বহু বছর যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বসবাস ও কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। নির্বাচনে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্য সমর্থন পান। ট্রাম্প বলেছিলেন, দে লা এসপ্রিয়েলা অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করবেন, অপরাধ ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন এবং দেশে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প আরো বলেন, দে লা এসপ্রিয়েলা নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন পাবেন। ঐতিহাসিকভাবে কলম্বিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এর একটি বড় কারণ ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো এবং ট্রাম্পের মধ্যে অভিবাসন নীতি, শুল্ক এবং লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে মতবিরোধ।

বিশ্লেষকদের মতে, দে লা এসপ্রিয়েলার উত্থান লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের অংশ। নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনের ইস্যুতে ভোটারদের উদ্বেগ অনেক দেশে ডানপন্থী নেতাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তার জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন অঞ্চলের আরও কয়েকজন ডানপন্থী নেতা।

জাভিয়ের মিলেই বলেন, কলম্বিয়ার জনগণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি এবং কঠোর নিরাপত্তার পথ বেছে নিয়েছে এবং সংগঠিত অপরাধ ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এ ছাড়া হোসে আন্তোনিও কাস্ট বলেন, ‘কলম্বিয়ার জন্য স্বাধীনতার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যা দেশটিকে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102