রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ পরিবর্তিত বাস্তবতায় আমাদের তরুণদেরকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয় বরং প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দুর্গাপুরে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার তাগিদ দিলেন ভূমি মন্ত্রী ৬৪ জেলা ও ৭৪টি প্রত্যন্ত উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে শুরু হচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’ ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত গ্যাং নেতা নিহত, দাবি ট্রাম্পের সরকারী কর্মচারীদের কোনো দলের জন্য নয়, বরং দেশের স্বার্থে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহবান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইংল্যান্ড দলের চুরি হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার, দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার বারবার আত্মসমর্পণের আবেদন করে প্রত্যাহার রেস্টুরেন্ট মালিকের

ঔষধ প্রশাসনের ডিজিডিএ’র পিএ শহিদুলকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম

উত্তরা নিউজ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

প্রশ্ন কখনো কখনো অভিযোগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। একটি প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় অনুসন্ধান, আর অনুসন্ধান থেকেই বেরিয়ে আসে বাস্তবতা। সম্প্রতি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এর পিএ মোঃ শহিদুল ইসলাম খানকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে যেসব অভিযোগ, গুঞ্জন ও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তা এখন কেবল অফিসের করিডোরে সীমাবদ্ধ নেই; বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট মহল, ওষুধ শিল্প, বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও। প্রথম পর্বে আমরা কিছু প্রাথমিক অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলে ধরেছিলাম। দ্বিতীয় পর্বে উঠে এসেছে আরও কিছু বিষয়, যেগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের কেন্দ্রে আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নঃ
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আর্থিক লেনদেন দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে। মাসোয়ারা নেন বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছে থেকে এই অর্থলোভী শহিদুল ইসলাম খান। তবে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য- বিষয়গুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রশ্ন উঠছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ থাকলে তা কতটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায়?
কিছু সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন কার্যক্রমে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ফাইল প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে শহিদুল ইসলাম খান এডিজিডিএ’র প্রকৃত ভূমিকা পালন করতেন—এ প্রশ্নও এখন আলোচনায়। সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে বলছেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের সঠিক সীমারেখা নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিষ্ঠানগত স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সম্পদ ও জীবনযাত্রা নিয়ে অভিযোগকারীদের একটি বড় অংশের প্রশ্ন সম্পদের উৎস নিয়ে। সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে সম্পদ, ব্যবসা, বিনিয়োগ কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য নেই বললেই চলে তা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অনেকেই।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কর্মকর্তার সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটির সবচেয়ে কার্যকর উত্তর হতে পারে স্বচ্ছ তদন্ত ও তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অনুসন্ধান?
বাংলাদেশের ঔষধ খাত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত। কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, ঔষধের মান, নিবন্ধন, অনুমোদন এবং বাজার তদারকির সঙ্গে জড়িত এই খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সেই কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো ককর্মকর্তা কর্মচারীদের সম্পর্কে অভিযোগ উঠলে বিষয়টি কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি, সুশাসন এবং জনআস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত হয়ে পড়ে।

তদন্তই দিতে পারে উত্তর:
বর্তমানে যেসব অভিযোগ ও প্রশ্ন সামনে এসেছে, সেগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের একমাত্র উপায় হলো নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য তদন্ত।

যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি পরিষ্কার হবে। আর যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে বিধিবাম শহিদুল ইসলাম খান এর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীও জানিয়েছেন অনেকেই।

(চলবে… তৃতীয় পর্বে)

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102