বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন

ট্রাম্পের দেশে ‘ফুটবল ফার্স্ট’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

বিমানের পাশের সিটের আমেরিকান ভদ্রলোকের মুখে শোনা কথা– লেডি লিবার্টির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে নাকি তাঁর পাথুরে মনের ভাষা পড়া যায়। নিউইয়র্কে পা রাখার পর এখনও যাওয়া হয়নি হাডসনের তীরে তাম্র মূর্তির ওই মহীয়সী নারীর কাছে। গিয়ে খুঁজতে হবে স্ট্যাচু অব লিবার্টির ছায়ায় ফুটবল রূপকথার ছায়া পড়েছে কিনা? শতবর্ষ ধরে যুদ্ধজয়ী কত শত জাহাজকে সে হাতের মশালটি দিয়ে বরণ করেছে, কত কোটি অভিবাসীকে আশ্রয় দিয়ে সে আপন করে নিয়েছে, সে নিশ্চয়ই তাঁর হাতের মশালটি স্বাগত জ্যোতি হয়ে উঠবে বিশ্বকাপ ফুটবলের।

স্বপ্নবাজদের নিয়ে সত্যিই গিয়ে দেখতে হবে একবার। আপাতত জেএফ কেনেডি বিমানবন্দরের বাইরে ব্যস্ত এই নিউইয়র্কের দুপুর। বিমানবন্দরের টার্মিনাল ফ্লোরের চওড়া করিডোরে ‘হোয়ার দ্য ওয়ার্ল্ড কামস টু প্লে’ লেখা নিউইয়র্ক ট্যুরিজমের সাইনবোর্ড ছাড়া ‘সকারের দেশে’ ফুটবল বিশ্বকাপের কোনো রং চোখে পড়েনি। অবশ্য রংধনুর সব রং বুঝি এখন বাংলাদেশ থেকে আড়াই হাজার মাইল দূরের মেক্সিকো সিটিতে। বিশ্বকাপের আবেগে টগবগ করছে সেই শহর। যেখানে আজ উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।

ফিফা মিডিয়া অ্যাপের খবর–এরই মধ্যে মেক্সিকান ওয়েব উঠে গেছে ম্যাচটিকে ঘিরে। দাই …দাই … থিম সং নিয়ে ৮৩ হাজারের ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়াম মাতাবেন শাকিরা ও বার্না বয়। মেক্সিকান গ্র্যামিজয়ী কিংবদন্তি রক ব্যান্ড মনোও থাকবে গ্যালারিতে মূর্ছনা তুলতে। বিশ্বকাপ গরমের আঁচটা আসলে মেক্সিকো থেকেই শুরু। উত্তর আমেরিকার তিন দেশের মধ্যে ফুটবলের ইতিহাস আর ঐতিহ্য এই মেক্সিকোতেই সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ। আজ যে মাঠটিতে খেলা হবে, সেই আজতেকাতেই পেলে থেকে ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ জিতেছেন।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের এই একটিই মাঠ শুধু দাবি করতে পারে তিন তিনটি বিশ্বকাপের (১৯৭০, ১৯৮৬ আর ২০২৬) উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের একক কীর্তি গড়েছে। পড়শি দেশের এই অহঙ্কারের জায়গায় হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ভাগ বসাতে পারবে না। তাই বলে ট্রাম্পের দেশ পিছিয়ে থাকবে, কক্ষনো না। এক দিন বাদেই হলিউডের ভাইব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রেও তারার মেলা বসছে। যেখানে স্বাগতিকরা প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ের। কেটি পেরি থেকে টাইলা, বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস থেকে হলিউডের হিউ জ্যাকম্যান আলো ছড়াতে সবাই হাজির হবেন সোফাই স্টেডিয়ামে।

আসলে আমেরিকা বরাবরই বড় জিনিসের ভক্ত।  আকাশছোঁয়া বহুতল ভবন, বিশ্ব কাঁপানো সবচেয়ে বড় অর্থনীতি, সবচেয়ে বড় সাবওয়ে, সবচেয়ে বড় শপিংমল–সেখানে ফুটবলইবা কেন বিশালতা ছাড়াবে না। সে কারণেই বুঝি এই প্রথমবার ৪৮ দলকে নিয়ে বিশ্বকাপ, তিনটি দেশের ১৬টি স্টেডিয়ামে ১০৪টি ম্যাচ। আড়াইশ বছরের বুড়ো দেশটিকে ছাব্বিশের তরুণীর রূপ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েই বুঝি ফুটবল এবার আটলান্টিক তীরে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগান যখন দেশের অর্থনীতিতে জোর দিচ্ছে, ফুটবল তখন এই দেশে ‘ওয়ার্ল্ড ফার্স্ট’ আবেগ নিয়ে হাজির হয়েছে। উবার চালকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য–কুইন্সের জ্যামাইকা পাড়া থেকে ব্রুকলিনের লাতিনো গলি–একটু একটু করে নাকি আমেরিকানরাও বুঝে নিচ্ছে আদতে তাদের খেলা সকার-ই বিশ্বের কাছে ফুটবল। এই খেলাটির সর্বজনীন ভাষাটাই বুঝি অনুবাদ করতে যাচ্ছে নিউইয়র্ক।

যদিও এই শহরে নয়, বিশ্বকাপের খেলা সব নিউজার্সিতে। দেড় ঘণ্টার মোটর ড্রাইভ–ট্রেনে গেলে কয়েকবার স্টেশন বদল করতে হয়। ব্রাজিল দলও তাদের বেস ক্যাম্প করেছে সেই নিউজার্সিতেই। নিউইয়র্ক বুলসের ৮০ একরের খোলামেলা পরিবেশেই অনুশীলন করছেন নেইমাররা। এখানকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই শনিবার (বাংলাদেশ সময় রোববার) প্রথম ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। সেদিনই হয়তো নিউইয়র্ক ছন্দ তুলবে সাম্বার।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102