বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার চার্জশিট সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দাখিলের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একযোগে লেবাননের একাধিক এলাকায় ইসরাইলি হামলা, নিহত ১৯ হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক নারী এমপি তুহিন ফের গ্রেফতার ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত জাইকা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর বৈঠক, অবকাঠামো সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব কোরবানির চামড়া ও উপজাত সংরক্ষণে অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মায়ের ওপর অভিমান করে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির ১ নম্বর সাব-কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার চার্জশিট সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দাখিলের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজধানীর মিরপুরে চাঞ্চল্যকর রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রীকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে এ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

মন্ত্রী আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের (Heinous Crime) ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি ঘটনার আসামিদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

মন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই ধরনের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ (Pro-active) ও ‘রি-অ্যাক্টিভ’ (Re-active) উভয় পদ্ধতিতে কাজ করছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানগুলো মূলত ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যেন অপরাধ সংঘটিত হতে না পারে। আর ধর্ষণ বা হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধের ক্ষেত্রে ‘রি-অ্যাক্টিভ’ ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেফতার ও তদন্ত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরো জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে তালিকাভুক্ত করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা মামলা। এ মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে আরও একজন আসামিকে শনাক্ত করা গেছে। এছাড়া কুমিল্লায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ, কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন এবং ঢাকার মান্ডায় প্রবাসী হত্যাকাণ্ডের মতো প্রতিটি ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ চিরুনি অভিযান ও ব্লক রেইডের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর ও আদাবর এলাকায় নিশ্ছিদ্র তল্লাশি ও ব্লক রেইড চলছে। এছাড়া গত ১৮ ও ১৯ মে যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে যথাক্রমে ৪১ জন এবং ৬৩ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলেও র‍্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি গ্রেফতার হয়েছে।

আইন সংস্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আইন সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সকল আইনকে যুগোপযোগী করা হবে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো সাময়িক ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে চটজলদি আইন প্রণয়ন বা বিশেষ আদালত গঠন করা সমীচীন নয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন কোনো ‘অবিচার’ না হয় বা কঠোর আইনের অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। নতুন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল সৃষ্টির চেয়ে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সংখ্যা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে বেশি যৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ (সিএএ) কার্যকর এবং পুশব্যাকের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের ‘সিএএ’ বা আসামের ‘এনআরসি’ তাদের নাগরিকদের জন্য নিজস্ব আইন-কানুন। সেখানে আমাদের কোনো বক্তব্য থাকার অবকাশ নেই। তবে বাংলাদেশের সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে যেন কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ (Push-in) না ঘটে।”

বিগত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরে আসার গুঞ্জন ও আইনি অবস্থান সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “আমরা তো তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি বাংলাদেশে মামলার মুখোমুখি হন।”

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102