রাজধানীর খিলক্ষেতে ছাত্রীদের ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় একটি বিদ্যালয়ের অন্তত ২০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
জানা যায়, রবিবার (১৭ মে, ২০২৬) পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন ৩০০ ফিট অভিমুখী সড়কে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীরা খিলক্ষেতের বরুয়া আলাউদ্দিন দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরুয়া আলাউদ্দিন দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল কিছু স্থানীয় বখাটেরা। এ নিয়ে আলাউদ্দিন দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে বখাটেরা ক্ষিপ্ত হয় এবং এসএসসি পরীক্ষা শেষে হামলার পরিকল্পনা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল ১৭ ই মে (রবিবার) শেষ পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার পর স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘আশিক গ্যাং’-এর প্রধান ‘সুইচ গিয়ার‘ আশিক, কুড়াতলির কিশোর গ্যাং নেতা মোহাম্মদ আলী, রনি ও স্বপনসহ ২৫–৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল লাঠিসোঁটা, চাপাতি, রামদা ও সুইচগিয়ার নিয়ে পরীক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্কুল ড্রেস পরা শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি কোপানো ও পেটানোর ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের জন্য ৩০০ ফিট সড়কের যানচলাচল ব্যাহত হয়। পরে পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
হামলায় গুরুতর আহত পরীক্ষার্থী এস. এম. সালমান জানায়, কুর্মিটোলা হাই স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে ‘আশিক গ্যাং’- এর সদস্যরা তাদের স্কুলের ছাত্রীদের উত্যক্ত করলে তারা প্রতিবাদ করেছিল। সেই ক্ষোভ থেকে গতকাল খিলক্ষেত মোড়ে ওঁত পেতে থাকা বখাটেরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। সালমানের কানের পাশে চাকুর আঘাতে ৭টি সেলাই লেগেছে।
এদিকে, দিনে-দুপুরে স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইনকে একাধিকবার কল দিলে তিনি প্রতিবেদকের কল কেটে দেন। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।