মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
দুর্গাপুরে রেল আসার আনন্দের বন্যা – বাস্তবায়ন ডেপুটি স্পীকার আড়াই বছরের শিশুসহ মা কারাগারে, ফটকে দাঁড়িয়ে অবুঝ দুই সন্তান মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ পালানোর সময় গ্রিলে আটকে গেল চোর, ভিডিও ভাইরাল সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজিই বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে: বিরোধীদলীয় নেতা ১০০ টাকার বেশি ময়লার বিল নিলেই লাইসেন্স বাতিল পরিবারের ভালোবাসা থেকে ‘বঞ্চিত’ হওয়ার ক্ষোভেই মাকে হত্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সাথে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের বৈঠক তুরাগে গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার বিশ্ব মা দিবসে মহীয়সী মা’দের সম্মাননা দিলেন উত্তরা ১২ নং সেক্টর সোসাইটি

দুর্গাপুরে রেল আসার আনন্দের বন্যা – বাস্তবায়ন ডেপুটি স্পীকার

উত্তরা নিউজ প্রতিবেদন
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

১১০ বছরের পুরনো এক স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে দুর্গাপুরে। সড়ক পথের পাশাপাশি এবার সংযোগ হচ্ছে রেল লাইন। এরই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার প্রায় প্রতিটি ঘরেই বইছে ঈদের আমেজ। প্রতিটি চায়ের দোকান, শপিংমল এমকি গ্রামের হাট বাজার গুলোতে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কথায় নয় কাজে বিশ^াসী। ১৩ মে দুর্গাপুরবাসীর কাছে চীরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ যেনো প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পেতে যাচ্ছেন দুর্গাপুর উপজেলাবাসী।

লক্ষ্যে ১৯১২ থেকে শুরু হয়ে ১৯১৮ সনে বানিজ্যিক ভাবে শ্যামগঞ্জ থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল হয়ে দুর্গাপুরে রেললাইন সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং রেলওয়ের কর্মচারীদের আবাসন নির্মানের জন্য জায়গা অধিগ্রহন এবং রেললাইন সম্প্রসারনের লক্ষে শুরু হয়েছিলো রাস্তা নির্মানের কাজ। পরবর্তিতে জারিয়া আনসার ক্যাম্পের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া রেললাইনটি জারিয়া ষ্টেশনে পৌঁছার আগেই ৯০ডিগ্রি এংগেলে যে বাঁক রয়েছে, ওই বাঁক থেকে সোজা কংশ নদী পার হয়ে দুর্গাপুরের দিকে রেল নেয়ার জন্য মাটিকাটাও শুরু হয়েছিলো, তাঁর প্রমান আজো জারিয়ার নাটোরকোনা এলাকায় রয়েছে।

পরবর্তিতে ১৯৪০ দশকের ‘টংক আন্দোলন, কৃষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, ১৯৬৫ সালে কাশ্মীর এলাকায় পাকিস্তানিদের অনুপ্রবেশের জেরে যুদ্ধ, ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কারনে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভুপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মাও এই অঞ্চলটিকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়নি পাকিন্তান রেলওয়ে (চজ) বা আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে (অইজ)‘র কর্তৃপক্ষ। পরবর্তিতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে (ইজ) পক্ষ থেকেও নেয়া হয়নি জোরালো কোন উদ্দ্যোগ যে কারনে, স্বপ্নের রেল আর দুর্গাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়নি।

গত ১২ ফেব্রুয়ারীর সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে নেত্রকোনা – ১ আসনে নির্বাচনী ইশতেহারে এলাকার নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির মধ্যে অত্র এলাকায় রেললাইন সম্প্রসারণের প্রতিশ্রতিও ছিলো। এরই প্রেক্ষিতে দুর্গাপুরের প্রতিটি এলাকায় চলছে ঈদের আমেজ।

রেললাইন দুর্গাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা দুর্গাপুরের পাহাড়, নদী, টিলা ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়বে। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে যা এলাকার স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য সৃষ্টি হবে নব নব কর্মসংস্থান। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং স্থানীয় আদিবাসীদের হস্তশিল্পের খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। এলাকার উৎপাদিত পণ্য কম খরচে পৌছে যাবে দেশ থেকে দেশান্তরে।

স্থানীয়দের মতে, জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন বাস্তবায়ন শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়; এটি পুরো নেত্রকোণা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, পর্যটন বিকাশ এবং শিল্পায়নের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাননীয় ডেপুটি স্পীকার কে।

প্রবীণ সংস্কৃতিজন বীরেশ্বর চক্রবর্ত্তী বলেন, আমার মৃত্যুর আগে দুর্গাপুরে রেললাইন সম্প্রসারণ দেখে যেতে পারবো এটা কোনদিন কল্পনা করিনি। অত্রএলাকা থেকে নির্বাচিত মাননীয় ডেপুটি স্পীকার উনার একান্ত প্রচেষ্টায় আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা করে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এজন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। রেল লাইন সম্প্রসারণ হলে অত্র এলাকার আমুল পরিবর্তন ঘটবে।

আদিবাসী নেতা অঞ্জন চিছাম বলেন, আমার বাড়ি বিজয়পুর। জীবনের শেষবেলায় এসে দেখলাম এমন একজন মানুষ যিনি এলাকার উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন। দুর্গাপুরে ট্রেন লাইন সম্প্রসারণ হবে এই খবরটা শুনে আদিবাসী জনগোষ্ঠী এলাকায় উৎসব বিরাজ করছে আমরা খুশি হয়েছি। কেননা এ খুশির খবরটির সাথে আমার ও এই এলাকার হাজার হাজার সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ট্রেন লাইন সম্প্রসারণের কাজটি দেখে যেতে পারলে আমি মরেও শান্তি পাব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আহমেদ সাদাত জানান, দুর্গাপুর উপজেলায় মাত্র তিন দিন হলো যোগদান করেছি। এর মাঝেই সুসংবাদ পেলাম দুর্গাপুর সীমান্তবর্তী উপজেলায় রেললাইন সম্প্রসারণ হবে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। রেললাইন চালু হলে দুর্গাপুর উপজেলা একটি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে। এখানকার জনমানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে। ধন্যবাদ জানাই মাননীয় স্পীকার স্যারকে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102