জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার ঢাকা-১৮ আসনের ওয়ার্ডগুলোতে আলোচনায় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সম্প্রতি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ নিয়ে ইসিকে চিঠি দেয়ার পর ঢাকার অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোর মতো রাজধানীর উত্তরা জনপদের ওয়ার্ডগুলোতেও চলছে নির্বাচনী গুঞ্জন। বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, মেয়র পদে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে এরই মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছে স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত তুরাগের তিন ওয়ার্ড যথাক্রমে ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে এরই মধ্যে আলোচনায় রয়েছে বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দের নাম। দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নজরেও রয়েছেন এসব প্রার্থীরা।
ডিএনসিসি ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় যারা
ঢাকা-১৮ আসনের অন্তর্গত তুরাগের বাউনিয়া, বাদালদি, আহালিয়া নিয়ে গঠিত ডিএনসিসি ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন তুরাগ থানা সাবেক সভাপতি মো. আলমাছ আলীর নাম। ২০২০ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও এই ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন তিনি। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে সরকার বিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর উত্তরার বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ের নেতৃত্ব দেয়ায় এরই মধ্যে একাধিক নেতাকর্মী মুখে তার নাম শোনা যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্লিন ইমেজ ও তারুণ্য নির্ভর নেতৃত্বের কারণে স্থানীয়দের কাছেও সুপরিচিত আলমাছ। এই আসনে আলোচনায় রয়েছে ৫২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের নামও।
৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
তুরাগের আরেক ওয়ার্ড ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীর আলোচনায় রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শহিদুল ইসলাম দুলালের নাম। শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনে একাধিক মিথ্যা মামলা, জেলজুলুম, নির্যাতনের শিকার হওয়ায় ওয়ার্ডজুড়ে দুলালের ভাল পরিচিতি রয়েছে। ২০২৪ জুলাই আন্দোলনে উত্তরার আজমপুরে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে পরবর্তীতে ১ মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বেঁচে ফেরেন তিনি। সে সময় দুলালের ঘাড়ে ৩টি গুলি লাগে। এছাড়াও ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে তুরাগ ও উত্তরা এলাকায় একাধিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন দুলাল। এসব কারণে আসন্ন ডিএনসিসি নির্বাচনে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় রয়েছে এই নেতার নাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শহিদুল ইসলাম দুলাল তারুণ্য নির্ভর ও ক্লিন ইমেজের হওয়ায় তরুণ ও এলাকার মুরব্বিদের কাছেও দুলালের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তুরাগ ও উত্তরার ব্যবসায়ী মহলেও তার পরিচিতি রয়েছে।
দিয়াবাড়ি, ফুলবাড়িয়া, রানাভোলা, চন্ডালভোগ, তারারটেক নিয়ে গঠিত তুরাগের এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীর আলোচনায় রয়েছেন তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী চান মিয়ার নাম। তার পক্ষেও নেতাকর্মীদের আওয়াজ তুলতে দেখা গেছে।
৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির নবীন-প্রবীণের আগ্রহ
অপরদিকে, ডিএনসিসির সর্বশেষ ওয়ার্ড তুরাগের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীর আলোচনায় রয়েছে তুরাগ থানা বিএনপির অপর যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী জহির উদ্দিনের নাম। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে একাধিক হামলা-মামলা নির্যাতন সত্বেও রাজপথে এই জহির উদ্দিনকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে।
কামারপাড়া, ধউর, নয়ানগর এলাকা নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ডে আলোচনায় রয়েছে তরুণ প্রার্থী মোহাম্মদ নিয়ামুল হাসানের নাম। রাজনীতিতে নাম লেখানো তরুণ এই নেতা যুক্তরাজ্য থেকে পড়াশুনা শেষ করে দেশেই বসবাস করছেন। নিয়ামুলকে জুলাই আন্দোলনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনেও উত্তরার রাজপথে দেখা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রচারণায় ভূমিকা রাখেন নিয়ামুল। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তরুণ এই প্রার্থী ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী হতে চান বলে জানা গেছে।
উত্তরা নিউজ/জি.টি