শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন

চীনের দখলে রাশিয়ায় বিদেশি গাড়ির বাজার

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমনের পর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও চীন হয়ে গ্রে-মার্কেট চ্যানেলের (আন-অফিসিয়াল) মাধ্যমে এখনও হাজার হাজার বিদেশি ব্র্যান্ডের গাড়ি রাশিয়ার ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।

রপ্তানি সংস্থা বলছে— জাপানি, জার্মান ও দক্ষিণ কোরীয় ব্র্যান্ডের গাড়ি বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে রপ্তানি হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে করপোরেট প্রত্যাহার অঙ্গীকার ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।

এই গাড়িগুলোর অনেকই চীনে যৌথ উদ্যোগে উৎপাদিত অথবা সেখানে পাঠানোর পর পুনরায় রপ্তানি করা হয়। এতে তথাকথিত ‘জিরো-মাইলেজ ইউজড’ গাড়ি—নতুন গাড়ি যা চীনে নিবন্ধিত করার পর ব্যবহৃত হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যাতে নির্মাতার অনুমোদনের প্রয়োজন এড়ানো যায়।

বুধবার মর্ডান ডিপ্লোমেসিতে সানা খানের বিশ্লেষণধর্মী এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়, ডিলার বা ব্যবসায়ীরা চীনে নতুন গাড়ি নিবন্ধন করে সেগুলোকে ব্যবহৃত রপ্তানি পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই শ্রেণিবিন্যাসের ফলে গাড়ি নির্মাতার অনুমোদন ছাড়াই রাশিয়ায় বিক্রি করা সম্ভব হয়, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।

চীনের উচ্চ ভর্তুকিপ্রাপ্ত ও তীব্র প্রতিযোগিতামূলক গাড়ির বাজার এই প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। রপ্তানিকারকরা দেশীয় বিক্রির পরিসংখ্যান বাড়াতে পারেন, ভর্তুকি সংগ্রহ করতে পারেন এবং অতিরিক্ত মজুত সরিয়ে ফেলতে পারেন; অন্যদিকে রাশিয়ার ডিলাররা উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন গাড়ি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।

রুশ বিশ্লেষণ সংস্থার অটোস্ট্যাট এর নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, চীন হয়ে আসা আমদানি এখন নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর ব্র্যান্ডের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।

২০২৫ সালে এ ধরনের দেশগুলোর গাড়ি নির্মাতাদের বিক্রি হওয়া প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার গাড়ির প্রায় অর্ধেকই চীনে উৎপাদিত।

২০২২ সাল থেকে এ ধরনের বিদেশি ব্র্যান্ডের ৭ লাখেরও বেশি গাড়ি রাশিয়ায় বিক্রি হয়েছে। জাপানি ব্র্যান্ডের চীনে তৈরি গাড়ি এই খাতে প্রাধান্য পাচ্ছে; গত বছর প্রায় ৩০ হাজার টয়োটা গাড়ি কেনা হয়েছে, যার বেশিরভাগই চীনে উৎপাদিত।

রাশিয়ার ক্রেতারা এখনো পশ্চিমা ও জাপানি ব্র্যান্ডকে প্রাধান্য দেন; বিশেষ করে প্রিমিয়াম মডেলগুলোকে। ডিলাররা জানিয়েছেন— তারা স্তরভিত্তিক মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গাড়ি সংগ্রহ করছেন, যাতে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যায়—যেমন মার্সিডেজ বেনজ, বিএমডব্লিও ও টয়োটা ব্যান্ডের ক্ষেত্রে।

চীনে ছাড়ে বিক্রি হওয়া ‘জিরো-মাইলেজ ইউজড’ (এমন নতুন গাড়ি বোঝায়, যা রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে কিন্তু প্রায় অব্যবহৃত) গাড়িগুলো রাশিয়ায় প্রায় নতুন গাড়ির দামে বিক্রি হচ্ছে, যা শক্তিশালী ভোক্তা চাহিদা ও সীমিত আনুষ্ঠানিক সরবরাহকে প্রতিফলিত করে।

ভলকসওয়াজেন গ্রুপ ও বিএমডব্লিউসহ বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা জানিয়েছে, তারা রাশিয়ায় রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে এবং চুক্তিভিত্তিক সুরক্ষা ও ডিলার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছে। তবে জটিল সরবরাহ শৃঙ্খল ও তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরতার কারণে বাস্তবায়ন কঠিন রয়ে গেছে।

প্রিমিয়াম জার্মান এসইউভি এখনও সচ্ছল রুশ ক্রেতাদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। গত বছর রাশিয়ায় বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এবং ভলকসওয়াজেন গ্রুপের ব্র্যান্ডের প্রায় ৪৭ হাজার গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজারের বেশি চীনে উৎপাদিত।

এমনকি শুধুমাত্র ইউরোপে উৎপাদিত মডেল—যেমন মার্সিডিজ-বেঞ্জ—চীনের মাধ্যমে রাশিয়ায় পৌঁছায় বলে ধারণা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102