বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

৯ বছর প্রেমের পর বিয়ে, ২ মাসের মধ্যেই স্বামীকে হত্যা করল স্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
নয় বছরের প্রেমের পর বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে সেই সংসারের করুণ পরিণতি ঘটে। উত্তর প্রদেশের বরেলি শহরের ইজ্জতনগর এলাকায় একটি ভাড়াবাড়ি থেকে ৩৩ বছর বয়সী জিতেন্দ্র কুমার যাদবের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নয় বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হলেও, বিয়ের দুই মাসের মধ্যেই এই দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে স্বামীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায়।প্রথমদিকে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিবেশীদেরও তাই জানানো হয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে অন্য তথ্য উঠে আসে। জিতেন্দ্রের মৃত্যুর হয়েছিল শ্বাসরোধের কারণে।পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত সব প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে, জিতেন্দ্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালক তাকে চেপে ধরতে সহায়তা করেন। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে মরদেহটি জানালার গ্রিল থেকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শ্যালক পলাতক থাকায় পুলিশ তার সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।স্ত্রী জ্যোতি এবং ভুক্তভোগী জিতেন্দ্র কুমার যাদব গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিয়ে করেন। তারা ৯ বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, হিন্দু রীতিনীতি অনুসারে এবং উভয় পরিবারের সম্মতিতেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। পুলিশের মতে, বিয়ের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে, মূলত টাকা নিয়ে।
জিতেন্দ্র জ্যোতির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে নেন এবং অনলাইন জুয়ায় হেরে যান। এই হার নিয়ে তাদের মধ্যে বারবার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।২৬ জানুয়ারি জ্যোতি যখন তার স্বামীর সঙ্গে অর্থ নিয়ে কথা বলা শুরু করেন, তখন তর্ক আরো তীব্র হয়ে ওঠে এবং মারামারিতে পরিণত হয়। সেই সময় জ্যোতি তার বাবা-মা এবং ভাইকে দম্পতির ভাড়া বাড়িতে ডেকে পাঠান বলে অভিযোগ।পুলিশের মতে, জ্যোতির ডাকে জ্যোতির বাবা কালীচরণ, মা চামেলি এবং ভাই দীপক বাড়িতে আসেন। ঘটনার সময় বাবা-মা এবং ভাই জিতেন্দ্রকে আটকে রাখেন, তার হাত-পা ধরে রাখেন আর জ্যোতি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।পুলিশ জানিয়েছে, জিতেন্দ্র সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার পর, পরিবার হত্যার চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করে। তার দেহটি মাফলার দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর প্রতিবেশীদের বলা হয়, জিতেন্দ্র আত্মহত্যা করেছেন।

২৬শে জানুয়ারী পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হয়। ভাড়া করা বাসার ভেতরে জিতেন্দ্রের মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনও চিহ্ন সেই বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক ছিল না।

কিন্তু জিতেন্দ্রের ভাই অজয় কুমার একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জ্যোতি এবং আরো তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করে এবং ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়।
এতে জানা যায়, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে, পুলিশ অভিযোগগুলোকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা থেকে হত্যায় পরিবর্তন করা হয় এবং তদন্ত জোরদার করা হয়। জ্যোতির ভাই দীপককেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ জানিয়েছে, জ্যোতি অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এবং স্বামীর মৃত্যুর আগের ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।

তদন্তকারীদের তিনি জানান, তিনি ও জিতেন্দ্র ছাত্রজীবন থেকেই একে অপরকে চিনতেন। জিতেন্দ্র বরেলিতে অবস্থিত দেশটির শীর্ষস্থানীয় সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইভিআরআই)–এ একজন ঠিকাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অন্যদিকে, পুলিশ জানায়, জ্যোতি উত্তরপ্রদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন।

তার জবানবন্দি অনুযায়ী, আর্থিক বিষয় নিয়ে ঘন ঘন বিরোধের কারণে বিয়ের পরের কয়েক সপ্তাহেই দম্পতির সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততা বেড়ে যায়। ঘটনার দিন সেই তর্ক চরমে পৌঁছায় বলে তিনি দাবি করেন, যার একপর্যায়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের ফোন করতে বাধ্য হন।

পুলিশ জানায়, এরপরের ঝগড়ার সময় জ্যোতির বাবা-মা ও ভাই জিতেন্দ্রকে চেপে ধরে রাখেন এবং তিনি নিজে ‘ক্রোধের বশে’ তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মৃত্যুর পর পুরো পরিবার মিলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102