সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
আইপিইউ সম্মেলন-২০২৬ ও প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের বিশেষ সাক্ষাৎকার কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীমুক্ত ধান সংগ্রহ, তিন জেলায় পাইলট প্রকল্প-খাদ্যমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আগামী নভেম্বরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলমান রয়েছে—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের সাক্ষাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে চিকিৎসা সেবা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টার বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করছেন: ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান হাসপাতালে অসুস্থ বৃদ্ধার পাশে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আব্দুল আলী, দিলেন চিকিৎসার আর্থিক সহায়তা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে আলোচনায় সাবেক ছাত্রনেতারা, প্রত্যাশার কেন্দ্রে সাত সংগঠক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি: আলফাজ উদ্দিনের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করলেন মোঃ আলমগীর হোসেন (ফিরোজ

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীমুক্ত ধান সংগ্রহ, তিন জেলায় পাইলট প্রকল্প-খাদ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। তিনি বলেন, কৃষক যাতে সহজে ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

আজ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ আয়োজিত খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব খোলা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কৃষকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে ধান সংগ্রহপ্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে বিকাশ – নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে কৃষকদের অর্থ পরিশোধের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের ঘরে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহির সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
খাদ্য বিভাগের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে জমে থাকা সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়; এ জন্য সময় প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জনস্বার্থে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যেকোনো সংকট মোকাবিলায় মানসম্মত চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা জরুরি। বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। আমদানিসহ সব উৎস থেকে সংগৃহীত খাদ্যশস্য নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করলেই গ্রহণ করতে হবে। খাদ্যশস্যের মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।
খাদ্যশস্য বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বিতরণ করা খাদ্যশস্যের প্যাকেটে নির্ধারিত সিল দিতে হবে এবং প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এতে বিতরণের প্রমাণ সংরক্ষণ, অনিয়ম শনাক্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা সহজ হবে। সরকারি খাদ্যশস্য যেন নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। খাদ্যপণ্য, দুধ, জুসসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। বর্তমানে খাদ্য পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত মিনি ল্যাব না থাকলেও দ্রুত দেশের ৬৪ জেলায় খাদ্য পরীক্ষার জন্য মিনি ল্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই জনগণের প্রকৃত চাহিদা ও সমস্যাগুলো সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তাই মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুঃ জসীম উদ্দিন খান ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ জামাল হোসেন। সভায় চট্টগ্রাম জেলার খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102