সাভারের আশুলিয়ায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসায় হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে হামলায় সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম। ঘটনার পর মাদরাসা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসাটি জোরপূর্বক দখলে রাখার পাল্টা অভিযোগ করেছেন ওই বিএনপি নেতা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার বিকেলে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদরাসায় প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা মাদরাসার বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
মাদরাসার উপপরিচালক (প্রশাসন) ও আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সদস্য সৈয়দ সানজিদ জানান, মাদরাসার সামনে ট্রাস্টের জায়গায় নির্মিত একটি মার্কেট দীর্ঘদিন ধরে ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তি দখলে রেখেছিলেন। সম্প্রতি ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে মাদরাসায় হামলা চালানো হয়েছে।
সৈয়দ সানজিদের অভিযোগ, হামলার সময় মাদরাসার অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ সময় কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ নগদ প্রায় ৩০ লাখ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট হয়েছে। এ হামলায় ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো লোক অংশ নেয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, মাদরাসা পরিচালনা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে দারুল এহসান ট্রাস্টের কার্যক্রমের বৈধতা নেই। সে জন্য বর্তমানে আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।
তবে হামলায় সহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা জেলা তাঁতী দলের সভাপতি জাকির হোসেন। তিনি নিজেকে মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও দারুল এহসান ট্রাস্টের সদস্য পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, তার ছেলে ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী। সে হিসেবে তিনি অভিভাবক সদস্য।
জাকির হোসেনের দাবি, সৈয়দ সানজিদের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে এবং সানজিদ তাকে মাদরাসার কার্যক্রমে অংশ নিতে বাঁধা দেন।
তিনি আরো দাবি করেন, সৈয়দ সানজিদ মাদরাসাটি বেআইনিভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এ কারণে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনিও সেখানে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে সহযোগিতা করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, মাদরায় হামলার খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় মাদরাসা পরিচালনা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় উভয় পক্ষেরই পৃথক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।