খেলার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মাঠজুড়ে উচ্ছ্বাস আর দর্শকদের করতালির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল বহুল আলোচিত ফুটবল ম্যাচ। তবে সেই ম্যাচের গল্প যেন খেলার মাঠেই শেষ হয়নি। পুরস্কার হিসেবে পাওয়া জোড়া খাসি নিজেদের ভোজে ব্যবহার না করে এতিম শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে হাদিয়া হিসেবে তুলে দিয়ে মানবিকতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বুধবার (২৩) সেপ্টেম্বর বিকেলে দুটি মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরন করেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা বিএনপি বনাম পৌর বিএনপির মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় একটি ঐতিহাসিক ও উৎসবমুখর ফুটবল ম্যাচ। খেলাকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। মাঠের লড়াইয়ে দুই দলই নিজেদের সেরা খেলা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্র-য়ের মাধ্যমে শেষ হয়।
খেলায় পুরস্কার হিসেবে রাখা হয়েছিল এক জোড়া খাসি। সাধারণত কোনো প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে পাওয়া সামগ্রী বিজয়ী বা সংশ্লিষ্টরা নিজেদের আনন্দে ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু দুর্গাপুরের এই আয়োজনের গল্পটি একটু ভিন্ন। পুরস্কার হিসেবে পাওয়া সেই জোড়া খাসি নিজেদের জন্য না রেখে তা এতিম শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গাপুর জামিউল উলুম কাচারী মাদ্রাসা এবং মারকাজুল মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য জোড়া খাসি হাদিয়া হিসেবে প্রদান করা হয়।
পুরস্কারের খাসি এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য হাদিয়া হিসেবে তুলে দেওয়ার সময় এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। খেলার মাঠের একটি পুরস্কার যখন এতিম শিশুদের আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে, তখন পুরো আয়োজনটি পায় ভিন্ন এক মানবিক মাত্রা।
স্থানীয়রা বলছেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদন কিংবা প্রতিযোগিতার মাধ্যম নয়; খেলাধুলাকে ঘিরে সমাজে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। দুর্গাপুরের এই উদ্যোগ তারই একটি সুন্দর উদাহরণ। একটি ফুটবল ম্যাচের পুরস্কারকে কেন্দ্র করে এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, দুর্গাপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেজ গনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম এবং পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আল ইমরান (সম্রাট) গনি।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দের এমন উদ্যোগকে ঘিরে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দের একটি উপলক্ষ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগটির প্রশংসা করেন।
একদিকে ফুটবল মাঠে ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অন্যদিকে মাঠের বাইরের সেই পুরস্কার হয়ে উঠল ভালোবাসা ও সহমর্মিতার প্রতীক। জোড়া খাসির সেই হাদিয়া হয়তো আর্থিক মূল্যে খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু এতিম শিক্ষার্থীদের মুখে যে হাসি ফুটিয়েছে, তার মূল্য নিঃসন্দেহে অনেক বেশি।
দুর্গাপুরের এই ঘটনা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ কিংবা পুরস্কার প্রদানের খবর নয়; বরং খেলাধুলার সঙ্গে মানবিকতার মেলবন্ধনের একটি সুন্দর বার্তা হয়ে থাকল।