ভারতে সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পর বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন দাবিকে নাকচ করে এসব খবরকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ আখ্যায়িত করেছে।
পাশাপাশি এ ধরনের ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে দেশটি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছে, ‘ভুয়া খবরের সতর্কতা! সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ পোস্টের বিষয়ে আমরা সতর্ক করছি!’
বিতর্কিত এসব পোস্টের তালিকায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম ‘পলিমার্কেট’-এর একটি পোস্টও অন্তর্ভুক্ত ছিল। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই এই বিতর্ক শুরু হয়।
প্রেসিডেন্ট রামাফোসার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের বিশ্রামের পরামর্শ পেয়ে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার পর সব ধরনের জনসমক্ষ কার্যক্রম থেকে নিজেকে আপাতত সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
তার এই অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সামাজিক ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এরই ধারাবাহিকতায় যাচাইবিহীন কিছু পোস্টে দাবি করা হয় যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং অসুস্থ বোধ করায় ও জ্ঞান হারিয়ে চিকিৎসার জন্য সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেছিলেন। এই দাবিটি প্রথম উত্থাপন করেন ‘চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন সিয়ে। তবে চীন বা ভারত কোনো দেশের সরকার বা নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
বেইজিং ও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং সফলভাবে গত ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন
এ ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন তিনি। তবে সম্মেলনের প্রথম দিনে নরেন্দ্র মোদির দেয়া নৈশভোজে অংশ নেননি শি চিনপিং।