অনেকেরই রক্তশূন্যতার সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। কেউ কেউ রক্তশূন্যতা দূর করতে নানাবিধ ওষুধ খান। এর পাশাপাশি খাবারদাবার নিয়েও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। শরীরে আয়রনের মাত্রা বাড়াতে সজনে খুবই জনপ্রিয়। অনেকেই সজনে দিয়ে ডাল বা স্যুপ বানিয়ে খান শরীরে আয়রন বৃদ্ধি করতে। কিন্তু সজনে গাছের কোন অংশটি সবচেয়ে বেশি পুষ্টিকর? তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে।
‘আনন্দবাজারে’র প্রতিবেদন অনুযাযী, সজনেডাঁটার মতো সজনেপাতাও পুষ্টিতে ভরপুর। এতে আয়রনের পাশাপাশি ভিটামিন ও অন্যান্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টও রয়েছে। এ কারণে আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ বাড়াতে চাইলে সজনেডাঁটার সঙ্গে পাতা যোগ করা যেতে পারে। বিশেষ করে সজনে দিয়ে স্যুপ বানালে শুধু ডাঁটা ব্যবহার না করে কিছু তাজা পাতা যোগ করা যায়। এতে স্যুপে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও আয়রনের পরিমাণ আরও বাড়ে।
ডাঁটা না পাতা, কোনটিতে বেশি আয়রন?
একই গাছের অংশ হলেও সজনেপাতায় ডাঁটার তুলনায় অনেক বেশি আয়রন রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম সজনেডাঁটায় আয়রন থাকে প্রায় ০.৩৬ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে সেই পরিমাণ পাতায় তা রয়েছে প্রায় ৪-৭ মিলিগ্রাম। শুকনো সজনেপাতার গুঁড়োয় এই পরিমাণটি আরও বেশি। প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২৫-২৮.২ মিলিগ্রাম পর্যন্ত আয়রন থাকে। আয়রনের দিক থেকে বিচার করলে পাতায় ডাঁটার তুলনায় প্রায় ৭-১১ গুণ বেশি আয়রন মেলে। বেশিরভাগ বাড়িতে রান্নায় শুধু সজনের ডাঁটাই বেশি ব্যবহৃত হয়, কিন্তু তার সঙ্গে পাতা যোগ করে দিলে আয়রন বেশি পরিমাণে পাওয়া যাবে।
যেভাবে সজনের স্যুপ বা ডাল বানালে বেশি আয়রন মিলবে
১. ভিটামিন সি-এর সঙ্গে খেলে আয়রন বেশি পরিমাণে শোষিত হবে। এ কারণে রান্নায় সামান্য লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে।
২. সজনেপাতা রান্না করার সময়ে খুব বেশিক্ষণ ধরে সেদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। এ কারণে রান্নার শেষের দিকে পাতা যোগ করা ভালো, তাহলে তাপের কারণে ভিটামিনগুলি নষ্ট হবে না।
৩. সজনেগুঁড়ো ব্যবহার করলে শুরুর দিকে অল্প পরিমাণে নেওয়া ভালো। রোজ আধ চা-চামচ নিলেই যথেষ্ট। তাহলে পাচনতন্ত্র এই গুঁড়োর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পাবে।