শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

জেলায় জেলায় কৃষিক্ষেতে কমলগঞ্জের টমেটোর চারা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার, ময়মনসিংহ থেকে পটুয়াখালী—দেশের নানা প্রান্তে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের গ্রাফটিং টমেটোর চারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর ৬৫ থেকে ৭০ লাখ চারা উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে এ উপজেলার চারা।

কৃষি বিভাগের হিসাবে, গ্রাফটিং টমেটোর চারা ঘিরে এক মৌসুমেই কমলগঞ্জে লেনদেন হচ্ছে অন্তত পাঁচ কোটি টাকার।

কমলগঞ্জের আদমপুর, জালালপুর, বনগাঁও, কান্দিগাঁও, মধ্যগাঁও ও নাজাতকোনাসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব চারার নার্সারি। সারি সারি চারার মাঝে হাতে ব্লেড নিয়ে ব্যস্ত শ্রমিকরা। নিখুঁতভাবে তিতবেগুন বা বনবেগুনের শক্ত শিকড়ের অংশের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন টমেটোর ওপরের অংশ।

ছোট্ট এই জোড়ায় বের হচ্ছে গ্রাফটিং চারা।
নার্সারি উদ্যোক্তারা জানান, প্রথমে তিতবেগুন ও টমেটোর আলাদা বীজতলা প্রস্তুত করা হয়। তিতবেগুনের চারা উপযুক্ত হতে প্রায় ৩৫ দিন এবং টমেটোর চারার জন্য প্রায় ২৫ দিন সময় লাগে। এরপর সেখান থেকে স্বাস্থ্যবান চারা বাছাই করে গ্রাফটিং করা হয়।

জোড়ার স্থান বিশেষ পলিথিন দিয়ে বাঁধার পর তিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে দুটি অংশ জোড়া লাগে। পরে আরো ১০ থেকে ১২ দিন পরিচর্যার ঘরে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।
উদ্যোক্তাদের দাবি, গ্রাফটিং করা টমেটোর চারা সাধারণ চারার চেয়ে শক্তিশালী হয় এবং সহজে ঢলে পড়ে না। রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকের মধ্যে এ চারার চাহিদা বাড়ছে।

প্রতিটি গ্রাফটিং চারা বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়। এ কাজে সৃষ্টি হচ্ছে বাড়তি কর্মসংস্থানও। একজন দক্ষ শ্রমিক দিনে এক হাজার থেকে ১২০০টি পর্যন্ত চারা জোড়া লাগাতে পারে।

গ্রাফটিং পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় কৃষক এম এ করিম জানান, ‘বনবেগুন হচ্ছে টমেটোর একটি জংলি জাত, গ্রাম-গঞ্জে এ বেগুনের হরেক নাম। এই বেগুন চারার গোড়ার দিকের অংশের সঙ্গে টমেটোর চারার ওপরের দিকের অংশ জোড়া দিয়ে করা হয় গ্রাফটিং। এভাবে লাগানো টমেটোর চারা বড় হয়ে ঢলে পড়ে না, রোগবালাইও তেমন হয় না। উপরন্তু ফলন হয় প্রচুর। যেখানে সাধারণ একটি গাছে টমেটো হয় পাঁচ থেকে ১০ কেজি, সেখানে গ্রাফটিং করা একেকটি গাছে ফলন হয় ২০ থেকে ২৫ কেজি।

গ্রাফটিং করা টমেটোর চারা পানি সহনীয় জানিয়ে কৃষক করিম বলেন, ‘এ কারণে ভারি বৃষ্টিতেও এই চারা নষ্ট হয় না।’ তিনি বলেন, ‘গ্রাফটিং চারার চাহিদা অনেক। নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের আরো আট থেকে ১০টি জেলায় সরবরাহ করি। অনেকে মৌসুমের আগেই চারার সংখ্যা জানিয়ে অর্ডার দেন। তাদেরকে সময়মতো সরবরাহ করতে হিমশিম খাই।’

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং টমেটোর চারা উৎপাদন হচ্ছে। এসব চারা মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হচ্ছে। এ খাত থেকে এক মৌসুমে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার লেনদেন হয়।’

কৃষি কর্মকর্তা জানান, কমলগঞ্জে চলতি মৌসুমে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ হয়েছে। এ চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৪৮০ জন কৃষক। দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা গ্রাফটিং চারার জন্য যোগাযোগ করছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102